দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ স্থগিত হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন নতুন তারিখ হিসেবে আগামী ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করেন। এর আগে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আদালতকক্ষে প্রবেশ করে দেখা যায়, আসামি সাহেদ তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে বসে একসঙ্গে বিরিয়ানি খাচ্ছেন। সেই সময় বিচারক এজলাসে উপস্থিত ছিলেন না। পরে আদালতের পেশকার মো. জাহিদুল জানান, আইনজীবী বিচারকের কাছ থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়েছিলেন। খাওয়া শেষ হলে ১২টা ৪৫ মিনিটে সাহেদকে হাজতখানায় ফেরত নেওয়া হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী এ মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর একই কর্মকর্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এবং রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে অধ্যাপক আজাদকে আসামি না করলেও তদন্তে তাঁর নাম আসায় তাঁকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্সবিহীন রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনা মূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। ওই হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগীপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা হারে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া রিজেন্টের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় ও অন্য কর্মচারীদের মাসিক খাবার খরচ হিসেবে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার চাহিদা তৈরি করে তা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০২২ সালের ১২ জুন আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু করে। এখন পর্যন্ত ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। সর্বশেষ চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ১২ নম্বর সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। আজ নির্ধারিত ছিল পরবর্তী সাক্ষ্যের দিন, কিন্তু সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় দুদকের প্রসিকিউটর মো. নূরে আলম সময়ের আবেদন করেন। এই মামলায় কারাগার থেকে সাহেদকে আদালতে আনা হয়। জামিনে থাকা বাকি পাঁচ আসামিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) শফিউর রহমান ও গবেষণা কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম। উল্লেখ্য, ২৩ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড হওয়া সাহেদকে সম্প্রতি সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।