ইসলামিক বিশ্বাস অনুযায়ী, ফরজ নামাজের পর মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হলো তাহাজ্জুদ। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিস (১১৬৩) অনুযায়ী, নবীজি (সা.) উল্লেখ করেছেন যে, রাতের নামাজ বা তাহাজ্জুদ হলো ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ। সাধারণত এশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত কিছুটা ঘুমানোর পর এই নামাজ আদায় করা হয়। মনে করা হয়, এই বিশেষ সময়ে বান্দার তওবা এবং যেকোনো কল্যাণকর প্রার্থনা সরাসরি কবুল হয়। তবে বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবন, রাত জাগার প্রবণতা এবং আলস্যের কারণে অনেকেরই শেষ রাতে জেগে ওঠা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহাজ্জুদকে প্রাত্যহিক জীবনের অংশ করে তুলতে এবং নিয়মিত জাগতে নিচের ৬টি কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।
প্রথমত, অন্তরে দৃঢ় ও খাঁটি সংকল্প রাখা প্রয়োজন। তাহাজ্জুদ পড়ার উদ্দেশ্য কেবল জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার সীমাবদ্ধতায় না রেখে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর নৈকট্য লাভের লক্ষ্য হওয়া উচিত। যখন একজন মানুষ আল্লাহর হেদায়েত পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করে, তখন অলসতা দূর হয় এবং স্রতা নিজেই বান্দার জন্য ঘুম থেকে ওঠা সহজ করে দেন।
দ্বিতীয়ত, ঘুমানোর আগে বিশেষ প্রার্থনা করা। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ব্যাকুল হয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত যেন তিনি শেষ রাতে সেজদাহ করার তৌফিক দান করেন। এই আকুতি এবং দোয়ার ফলে ঘুমের ওপর একটি আত্মিক প্রভাব তৈরি হয়, যা জাগরণে সহায়তা করে।
তৃতীয়ত, দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস বা 'আর্লি বার্ড' হওয়া। তাহাজ্জুদের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে হলে রাতে দ্রুত ঘুমানো অপরিহার্য। এশার নামাজের পর অকারণে সময় নষ্ট না করে দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস করা উচিত। প্রত্যেকের ঘুমের প্রয়োজন ভিন্ন হয়, তাই নিজের শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী সময়সূচি ঠিক করা প্রয়োজন যাতে সকালে প্রফুল্ল মনে জাগা যায়। অনেকে তাহাজ্জুদের পর পুনরায় ঘুমিয়ে ফজরে ওঠেন, আবার অনেকে একনাগাড়ে জিকির ও ফজরের নামাজ পর্যন্ত জেগে থাকেন—উভয় পদ্ধতিই অনুসরণ করা সম্ভব।
চতুর্থত, অ্যালার্ম ব্যবহারের কৌশল। নিয়মিত একই সময়ে জেগে ওঠার জন্য অ্যালার্ম সেট করা একটি কার্যকর পদ্ধতি। এর ফলে শরীর ও মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট বায়োলজিক্যাল রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে অ্যালার্ম ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম ভাঙতে সাহায্য করে।
পঞ্চমত, পবিত্র অবস্থায় ঘুমানো। সুন্নাহ অনুযায়ী ওজু করে ঘুমানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। শরীর পবিত্র থাকলে এবং অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা থাকলে শেষ রাতে জাগা সহজ হয়। এছাড়া ওজু অবস্থায় ঘুমালে ফেরেশতাদের দোয়ার বরকত পাওয়া যায়।
ষষ্ঠত, পর্যায়ক্রমে অভ্যস্ত হওয়া। যেকোনো নতুন আমলের ক্ষেত্রে শুরুতেই অতিরিক্ত কঠোর না হয়ে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। প্রথম দিকে অল্প কয়েক রাকাত দিয়ে শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ। হঠাৎ করে অনেক বেশি রাকাত পড়ার চেষ্টা করলে পরবর্তীতে ফজরের নামাজ মিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে কিংবা দৈনন্দিন কাজের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। সুনানে তিরমিজির একটি হাদিস (২৪৮৫) অনুযায়ী, মানুষ যখন ঘুমানোর সময় রাতে নামাজ আদায় করে, তবেই তারা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অল্প হলেও যেকোনো নেক আমল নিয়মিত বজায় রাখাই হলো সর্বোত্তম কৌশল।




