সুন্দরবনের নদ-নদী এবং খালের বাস্তুসংস্থানে প্রায় ৩৮০ প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব রয়েছে। এই বিশাল জলজ বৈচিত্র্যের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ২১০ প্রজাতির মাছের নমুনা এখন সংরক্ষিত করা হয়েছে সুন্দরবন জাদুঘর ও তথ্যকেন্দ্রে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান 'ওয়াইল্ডটিম'-এর বিশেষ উদ্যোগে এই জাদুঘরটি গড়ে তোলা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো বাঘ সংরক্ষণ এবং সুন্দরবনের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। জাদুঘরটি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল গ্রামের একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয়তলায় অবস্থিত।

এই তথ্যকেন্দ্রটি কেবল মাছের সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এখানে মানচিত্র, বিভিন্ন চিত্রকর্ম এবং বনের ক্ষুদ্র প্রতিরূপের মাধ্যমে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মাছের পাশাপাশি এখানে সাপ, পাখি, ব্যাঙ, হরিণ এবং গন্ধগোকুলসহ আরও অনেক বন্যপ্রাণীর নমুনা প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে যারা সরাসরি সুন্দরবনের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, তারা এই জাদুঘরে এসে বনের প্রাণবৈচিত্র্য ও পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ এই জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এটি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ বন বিভাগ, জার্মান কো-অপারেশন, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউ এবং আইইউসিএন-এর 'ইন্টিগ্রেটেড টাইগার হ্যাবিট্যাট কনজারভেশন প্রোগ্রাম'।

জাদুঘরের গ্যালারিতে প্রদর্শিত মাছগুলোর মধ্যে মৌরি, বাটা, বেকি বা কানাপোনা, মাখন চান্দা, গনগনে বেলে, একঠুঁইট্যা, চাপাকড়ি, লাক্ষা বা ছোট লাখুয়া, দারকুটা বা দাঁইতা এবং লম্বা চাপা মাছের মতো বৈচিত্র্যময় প্রজাতির নমুনা রয়েছে। এছাড়াও দেখা যাবে কাঁটা গোগাট বা সোনালি টেংরার মতো মাছ। মোংলা ভ্রমণের সময় পর্যটকরা এই অনন্য জাদুঘরটি ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন।