নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের পর এখন বিশ্ব ফ্যাশন দুনিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে যুক্তরাজ্যের রাজধানী। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে লন্ডন ফ্যাশন উইক। প্যারিসের বিলাসিতা এবং মিলানের ঐতিহ্যের মাঝে লন্ডন নিজেকে কোন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করবে, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্যারিস ও মিলানের আধিপত্যের কারণে লন্ডনের ফ্যাশন দৃশ্য কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়েছিল, এমনকি বেশ কিছু ব্রিটিশ ব্র্যান্ড নিজেদের শহরের বদলে অন্য শহরে প্রদর্শনী করা শুরু করেছিল। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ ফ্যাশনের সৃজনশীলতা ও নতুনত্বকে পুনরায় সামনে নিয়ে আসা এবং দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোকে নিজেদের শহরে ফিরিয়ে আনা।
লন্ডন ফ্যাশন উইকের আকর্ষণ মূলত জাঁকজমকের চেয়ে নতুন ভাবনা এবং নিজস্ব শৈলীর ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের নামী বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউসের অনেক প্রভাবশালী পরিচালক তাদের ক্যারিয়ারের শুরুটা করেছেন এই শহরেই। উদাহরণস্বরূপ, হার্মেসের পুরুষ পোশাক বিভাগের প্রধান গ্রেস ওয়েলস বোনার, ডিওরের জোনাথন অ্যান্ডারসন এবং গিভেঞ্চির সারাহ বার্টন—তাঁরা সবাই লন্ডনেই নিজেদের নকশার ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছেন। ব্রিটিশ ফ্যাশন কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী লরা ওয়েয়ার মনে করেন, লন্ডনকে অন্য শহরের অনুকরণ না করে বরং সৃজনশীলতা ও নতুনত্বের শহর হিসেবে নিজের শক্তিকে কাজে লাগানো উচিত।
তবে নতুন ডিজাইনারদের জন্য শুধু সৃজনশীলতা যথেষ্ট নয়, ব্যবসায়িক টিকে থাকাও বড় চ্যালেঞ্জ। গত এক দশকে পাইকারি বিক্রির সুযোগ কমে যাওয়া এবং দোকানের পরিসর সংকুচিত হওয়ায় নতুন ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বাজার সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি লন্ডনের উচ্চ বাড়িভাড়া এবং ব্যবসায়িক করের চাপ ডিজাইনারদের জন্য বাড়তি সমস্যা তৈরি করেছে। ফলে ব্রিটিশ ফ্যাশন কাউন্সিল এখন ডিজাইনারদের বিকল্প উপায়ে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর পরামর্শ দিচ্ছে, যাতে তারা সরাসরি নিজস্ব বাজার তৈরি করতে পারে।
এবারের আয়োজনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো আলেকজান্ডার ম্যাককুইনের প্রত্যাবর্তন। ২০০০ সাল থেকে প্যারিসে প্রদর্শনী করা এই ব্র্যান্ডটি এবার পুনরায় লন্ডনে ফিরছে। প্যারিসের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে তাদের সৃজনশীলতা যতটা আলোচনায় আসেনি, লন্ডনে ফিরে আসা তাদের জন্য নতুন এক সুযোগ হতে পারে। আগামী রবিবার সন্ধ্যায় তাদের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য ব্রিটিশ ব্র্যান্ডগুলোও নিজেদের শহরে ফিরে আসে কি না, তা দেখার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
পুরো আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে আগামী সোমবার রাতে বারবেরির প্রদর্শনীর মাধ্যমে। দীর্ঘ দুই বছরের কঠিন সময় কাটিয়ে চলতি বছরের মে মাসে এই বিলাসবহুল ব্র্যান্ডটি পুনরায় লাভজনক অবস্থানে ফিরেছে, যার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বাজারের বড় ভূমিকা রয়েছে। ট্রেঞ্চ কোট, চায়ের কাপ এবং অলিভিয়া কোলম্যানের মতো প্রতীকের মাধ্যমে তারা ব্রিটিশ পরিচয়কে এক নাটকীয় ও আধুনিক রূপ দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, প্যারিস বা মিলানের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বদলে সৃজনশীলতাকে হাতিয়ার করে লন্ডন আবারও ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী হিসেবে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে চায়।




