সৌন্দর্যচর্চায় শরীরের গঠন পরিবর্তনের জন্য সম্প্রতি 'অ্যালোক্লে' নামক এক ধরনের ফিলার আলোচনায় এসেছে, যার মূল উপাদান সংগ্রহ করা হয় মৃতদেহের দান করা টিস্যু থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের 'টাইগার অ্যাসথেটিকস' নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই ফিলারটি তৈরি করেছে। সাধারণত প্রচলিত ফিলারে কৃত্রিম উপাদান হিসেবে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ব্যবহৃত হয়, কিন্তু অ্যালোক্লে-তে ব্যবহার করা হয় মানবদেহের চর্বিযুক্ত টিস্যু। এটি কোনো ক্রিম বা সিরাম নয়, বরং সূঁচের মাধ্যমে ত্বকের নিচে প্রবেশ করিয়ে নির্দিষ্ট অংশের ভরাটভাব বা আকৃতি বাড়ানো হয়।

এই ফিলার তৈরির প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। যারা মৃত্যুর আগে টিস্যু দানে সম্মতি দিয়েছেন, তাদের দেহ থেকে প্রয়োজনীয় টিস্যু সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহের আগে দাতার চিকিৎসার ইতিহাস এবং সংক্রামক রোগের পরীক্ষা করা হয়। তবে এই টিস্যু সরাসরি অন্য শরীরে দেওয়া হয় না; কারণ দাতার রক্ত, কোষ ও বংশগত উপাদান থাকলে গ্রহীতার শরীর তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তাই বিশেষ প্রক্রিয়ায় এসব উপাদান সরিয়ে ফেলে এবং জীবাণুমুক্ত করে একটি ত্রিমাত্রিক কাঠামো তৈরি করা হয়। এটি শরীরে প্রবেশের পর নতুন করে জীবন্ত চর্বিতে পরিণত হয় না, বরং একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে যার ভেতর দিয়ে রোগীর নিজস্ব কোষ ও রক্তনালি প্রবেশ করে নতুন টিস্যু ও কোলাজেন তৈরি করে।

অ্যালোক্লে মূলত শরীরের বড় অংশের আকৃতি ঠিক করতে ব্যবহৃত হয়। এর উচ্চ ঘনত্বের কারণে এটি মুখমণ্ডলের চেয়ে কোমর ও নিতম্বের পাশের গর্ত ভরাট করতে, নিতম্বের আকৃতি পরিবর্তন, স্তনের অসমতা দূর করা কিংবা পূর্বের অস্ত্রোপচারের পর ত্বকের অসমতা মসৃণ করতে বেশি কার্যকর। প্রচলিত চর্বি প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের তুলনায় এটি কম আক্রমণাত্মক, কারণ এতে নিজের শরীর থেকে চর্বি সংগ্রহের জন্য আলাদা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। বিশেষ করে যাদের শরীরে চর্বির পরিমাণ কম বা যারা ওজন কমানোর জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহারের ফলে শরীরের ভরাটভাব হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে এটি ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

তবে এই প্রযুক্তির পেছনে বড় ধরনের নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জীবনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, অঙ্গ বা টিস্যু দান সাধারণত মানবিক ও জীবনরক্ষাকারী কাজে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সেই দান করা টিস্যু দিয়ে হাজার হাজার ডলার মূল্যের বাণিজ্যিক সৌন্দর্যবর্ধক পণ্য তৈরি করা দাতার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এছাড়া দাতা কি জানতেন যে তার টিস্যু নিতম্ব বা কোমর ভরাট করার মতো কাজে ব্যবহৃত হবে—এই সম্মতির বিষয়টিও এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে এটি মানব কোষ ও টিস্যু পণ্যের আওতায় থাকায় সাধারণ ওষুধের মতো কঠোর অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় না।

ঝুঁকির কথা বিবেচনা করলে, অ্যালোক্লে সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। ইনজেকশনের পর রক্ত সরবরাহ পর্যাপ্ত না হলে টিস্যু নষ্ট হয়ে শক্ত ও ব্যথাযুক্ত গুটি তৈরি হতে পারে, যা পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করতে হয়। এছাড়া সংক্রমণের আশঙ্কা এবং ফিলারটি শরীরের ভেতরে সরে গিয়ে আকৃতিতে অসমতা তৈরির সম্ভাবনা থাকে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্যের সীমাবদ্ধতা। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই পদ্ধতি গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।