বিদ্যুৎ বিল ও জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে গ্রেপ্তার সিফাত আবদুল্লাহর জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর বিচারক রাকিবুল ইসলাম এই আদেশ দেন। এর ফলে ২০ বছর বয়সী এই তরুণকে কারাগারেই থাকতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাতে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে তাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সিফাত রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী এবং গাজীপুর মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার বাসিন্দা সিকান্দার আলীর ছেলে।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম জামিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিফাত বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন বা যে গালিগালাজ করেছেন, তা এজাহারে নেই। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও শুনানিতে এই বিষয়টি উত্থাপন করেননি। তিনি আরও বলেন, ৪ জুনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যার সঙ্গে সিফাতের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি রাজনৈতিক হয়রানি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি সিদ্দিকুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার সিফাত ফ্যাসিবাদের দোসর এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সিফাত ৫ আগস্টের আগে থেকেই ফ্যাসিস্টদের হয়ে কাজ করছেন এবং এখনও তা অব্যাহত রেখেছেন। আদালত জামিন আবেদনটি নামঞ্জুর করেছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এদিকে সিফাতকে এনসিপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক আলীর নাছের খান। তিনি বলেন, সিফাত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং তার আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও রয়েছে। এখন বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, যা এক ধরনের নতুন ফ্যাসিজমের অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।




