চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী ওই শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় গত শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া ওই সভায় ভিন্ন ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া সোমবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রথম তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আবদুল ওয়াহেদকে অভিযোগনামা দেওয়া হবে। এরপর তাঁকে নিজের বক্তব্য ও অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্বিতীয় তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই আবদুল ওয়াহেদ তাঁর ফেসবুক আইডিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত একটি পোস্ট দেন। ১১ জুলাই পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সূত্রপাত হয়। এর পরের দিন অর্থাৎ ১২ জুলাই সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে চূড়ান্ত তদন্তের জন্য নতুন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে রেজিস্ট্রার নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, গত ৯ আগস্ট সমাজবিজ্ঞান অনুষদ এলাকায় দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জের ধরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। অপরদিকে ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাহসির হাসানকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবারের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। শৃঙ্খলা কমিটির কার্যবিবরণী প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার।
আরেকটি ঘটনায়, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলের (সাবেক জননেত্রী শেখ হাসিনা হল) নামফলক ও কংক্রিটের নৌকা ভাঙতে যান একদল শিক্ষার্থী। তখন হলের কিছু ছাত্রী বাধা দিলে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কোরবান আলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় আইন বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েতকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং তাঁর সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর বিরুদ্ধে আদালতে যান আফসানা। আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত তাঁকে ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ দেয়। মামলার শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে সেই ছয় মাসের সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাঁর বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে এবং ক্লাস করার অনুমতিও আদালতের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।




