পপular সংস্কৃতিতে, বিশেষ করে সিনেমা বা টিভি সিরিজে সিকিউরিটি ক্যামেরাকে ফাঁকি দিতে লেজার পয়েন্টার ব্যবহারের দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। যেমন, আমেরিকান সিরিজ 'বেটার কল সল'-এর একটি পর্বে দেখা যায়, চরিত্র ভার্নার জিগলার লেজার পয়েন্টার ব্যবহার করে নজরদারি ক্যামেরা অকেজো করে পালিয়ে যান। তবে বাস্তব জীবনে এই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট 'এনগ্যাজেট'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেজার পয়েন্টার দিয়ে সাময়িকভাবে ক্যামেরাকে অন্ধ করা সম্ভব হলেও তা স্থায়ীভাবে কার্যকর করা বেশ জটিল।
মূলত তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে এটি সম্ভব হতে পারে: অত্যন্ত শক্তিশালী লেজার, পুরনো প্রযুক্তির ক্যামেরা এবং একদম স্থির হাতের নিখুঁত লক্ষ্য। তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এই ধরনের কাজ বেআইনি। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিয়ারওয়াটার এলাকার এক ব্যক্তি 'চার্চ অফ সায়েন্টোলজি'-র ক্যামেরায় লেজার তাক করার অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। যদিও তিনি ক্যামেরাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেননি, তবে লেন্সে দাগ পড়ার কারণে দুই হাজার ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত ক্যামেরার ফুটেজ থেকেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
প্রযুক্তিগতভাবে, সিকিউরিটি ক্যামেরার সেন্সরগুলো আলোকে বৈদ্যুতিক চার্জে রূপান্তর করে ভিডিও ফ্রেম তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ার কারণে ক্যামেরার সেন্সর মানুষের চোখের চেয়েও তীব্র আলোর প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়। গাড়ির হেডলাইট বা সূর্যের প্রতিফলিত আলোর মতো তীব্র আলো লেন্সে পড়লে ভিডিও ফুটেজ সাদা হয়ে যায় বা ঝলকানি তৈরি হয়। লেজার পয়েন্টার ঠিক একই কাজ করে, তবে এর তীব্রতা অনেক বেশি। সিসিটিভিতে ব্যবহৃত 'সিএমওএস' বা 'সিসিডি' সেন্সরের দিকে দীর্ঘক্ষণ লেজার তাক করে রাখলে তা সাময়িকভাবে অন্ধ হয়ে যায়। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লেজার তাপ উৎপন্ন করে, যার ফলে ছবিতে কালো দাগ বা 'ডেড পিক্সেল' তৈরি হতে পারে এবং চরম ক্ষেত্রে সেন্সরটি স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে যেতে পারে।
তবে আধুনিক ক্যামেরায় এই ক্ষতি করা অত্যন্ত দুঃসাধ্য। এফডিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী ৫ মিলিওয়াটের বেশি ক্ষমতার বহনযোগ্য লেজার বিক্রি বা প্রচার নিষিদ্ধ। আর ৫ মিলিওয়াটের নিচের লেজার দিয়ে স্থায়ী ক্ষতি করা সম্ভব নয়। এছাড়া, আইপিভিএম-এর গবেষকদের মতে, মাত্র ৫ ফুট দূরত্ব থেকেও হাত না কাঁপিয়ে নির্দিষ্ট লেন্সে লেজার স্থির রাখা খুবই কঠিন। সিরিজের সহ-স্রষ্টা ভিন্স গিলিগানের মতে, এই কৌশল কেবল ১৯৬০-এর দশকের পুরনো ক্যামেরায় কাজ করতে পারত।
ক্যামেরাকে লেজার থেকে বাঁচাতে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। ক্যামেরাকে অনেক উঁচুতে বা বিশেষ কোণে স্থাপন করলে লেজার তাক করা কঠিন হয়ে পড়ে। মুভিং ক্যামেরা এবং একাধিক ক্যামেরার সমন্বয়ে নজরদারি চালালে একটি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিরাপত্তা বজায় থাকে। এছাড়া বর্তমানের অনেক আধুনিক ক্যামেরায় বিশেষ অ্যালগরিদম থাকে, যা লেন্সে তীব্র আলোর রশ্মি বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে।




