সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার মতো মারাত্মক অবহেলার অভিযোগের মুখে দীর্ঘ ছয় মাসের লড়াই শেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ২৫ বছর বয়সী বিথী আক্তার। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা বিথী আক্তার ছিলেন পেশায় একজন ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি নার্স। তিনি মো. রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা।

বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবার তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা তার পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেন। এই ঘটনার পর থেকেই বিথী অসহ্য যন্ত্রণা এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর, অর্থাৎ ১৫ জুলাই তাকে পুনরায় অস্ত্রোপচার করতে হয়। সেই সময়ে তার অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে তাকে আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার আশায় গত ৪ অক্টোবর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক এবং তিনি নিজে বিথীর বাড়িতে গিয়ে তার সন্তানকে দুইবার দেখতে গিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেন।