গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে আরও তিন দিনের রিমান্ড প্রদান করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস পুলিশ গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন আদালতের এই আদেশের কথা নিশ্চিত করেছেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে রবিউলকে আটক করে ডিবি পুলিশ। শুরুতে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে আনা হয় এবং দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ডিবি পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে রবিউলের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ অক্টোবর উত্তরা পশ্চিম থানায় ডিবি পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তাকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ধানমন্ডি জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. নূর আলম তাকে আবারও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও হারুন-অর-রশীদ এই আবেদনের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেন। অ্যাডভোকেট সুমন উল্লেখ করেন যে, আসামি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং অত্যন্ত কৌশলী হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ তথ্য বের করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট হারুন জানান, রবিউলের মোবাইল ফরেনসিক করার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে, যার বিস্তারিত তদন্তের জন্য রিমান্ড অপরিহার্য। বিপরীতে, আসামির আইনজীবী আব্দুল মোমেন মিয়া দাবি করেন, পূর্ববর্তী জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তাই নতুন করে রিমান্ডের প্রয়োজন নেই এবং তাকে জামিন দেওয়া হোক।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিউল ইসলামের পাসপোর্টের জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ লেখা থাকলেও তার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টের জন্ম তারিখে অমিল রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল স্বীকার করেছেন যে, গত এক দশকে তিনি পর্যটন ও ব্যবসার ভিসায় একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন। সর্বশেষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তিনি দেশে প্রবেশ করেন। পুলিশের অভিযোগ, ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং সংরক্ষিত এলাকার ছবি ও নথি সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন।




