মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে জারি করা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৩০ কেজি ইলিশ মজুত করার ঘটনা সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বসুরহাট মাছ বাজারের আবদুল ওহাব নামের এক ব্যবসায়ীর আড়তে অভিযান চালিয়ে এই মাছ জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শাহনেওয়াজ মোর্শেদ অপু জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আড়তটিতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় আড়ত মালিক উপস্থিত না থাকায় ম্যানেজার বেলায়েত হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, জব্দ করা ইলিশগুলো নষ্ট না করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী, স্থানীয় দুটি এতিমখানার তত্ত্বাবধায়কদের ডেকে এনে তাদের মাঝে মাছগুলো ভাগ করে দেওয়া হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে যখন ক্ষতিকারক নয় এমন কোনো খাদ্যদ্রব্য জব্দ করা হয়, তখন তা নষ্ট না করে কাছাকাছি সরকারি বা বেসরকারি এতিমখানা কিংবা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে প্রদান করা হয়। এর ফলে একদিকে যেমন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, অন্যদিকে অভাবী শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পায়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নদ-নদীতে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় এবং বাজারজাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর নোয়াখালীর ভেতরে এটিই প্রথম অভিযান। যারা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরা, মজুত কিংবা বিক্রয় করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।