শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে সিসা নামক বিষাক্ত ধাতুর সংস্পর্শ মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে এটি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি সাধন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, সিসার প্রভাবে শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এছাড়া শেখার ক্ষেত্রে জটিলতা এবং আচরণগত সমস্যার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের শরীর ও মস্তিষ্কের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেহেতু বিকাশের পর্যায়ে থাকে, তাই খুব সামান্য পরিমাণ সিসার দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শও তাদের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি, আচরণ এবং শিক্ষা গ্রহণের ক্ষমতার ওপর স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সিসার বিষক্রিয়ার ফলে শিশুদের রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। ২০২৫ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশের রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম অথবা তার চেয়ে বেশি সিসার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সিসার সংস্পর্শজনিত এই ক্ষতিগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই শিশুদের সিসার উৎসের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা এবং সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।




