শিশুদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শ্রেণি, পেশা কিংবা ভৌগোলিক অবস্থান—অর্থাৎ সমতল বা পাহাড়ি অঞ্চলের কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত শিশু অধিকারবিষয়ক সংসদীয় ককাসের প্রথম বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এই মত প্রকাশ করেন। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈঠকের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একতাবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। শিশু অধিকার সুরক্ষায় ককাসের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসেবে স্বাগত জানান তিনি। তার মতে, কেবল সংসদ সদস্যদের মাধ্যমেই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
দেশের বিদ্যমান আইনগুলোর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কায়সার কামাল জানান, শিশু সুরক্ষা ও অধিকার সংক্রান্ত অনেক আইন দেশে প্রচলিত থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা সমাধানে বাজেট এবং অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন এবং পাশাপাশি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রস্তাবিত এবং খসড়া আইনগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধনীর প্রস্তাব আনা যেতে পারে। তবে যদি নির্বাহী বিভাগে কোনো জটিলতা থাকে, তবে সংসদ সদস্যরা বেসরকারি বিলের মাধ্যমেও বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করতে পারেন। এ ব্যাপারে সংসদের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বৈঠকটিতে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশুবান্ধব নীতি ও আইন প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের যুক্ত করে সংসদীয় উদ্যোগ জোরদার করা, নীতি নির্ধারণ এবং তদারকির প্রস্তাব করা হয়। বিশেষ করে কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পাহাড়ের শিশু এবং এতিম ও দুস্থ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিরীন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সদস্য মোরশেদ মিলটন, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, আন্না মিনজ এবং মাধবী মার্মা।




