বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে গোছানোর তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বিগত শাসনামলের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর শিক্ষাকাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, নানা ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাকে একীভূত করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বেপরোয়াভাবে নিম্নমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়ার কারণে অদক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি জোরালোভাবে বলেন, ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে আরও মনোযোগী হতে হবে। এতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে উঠবে, যা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। তাঁর ভাষ্য, সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও প্রয়োজন—সবকিছু বিবেচনায় রেখে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের ত্রুটিগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষাক্রমকে যুগোপযোগী করতে হবে।

সাক্ষাতের সময় এপিইউবির প্রতিনিধিরা দেশের উচ্চশিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদানের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তাঁরা কর্মদক্ষতা ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনে জাতীয় প্রয়োজনের সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক চাহিদা যাচাই, বিনিয়োগ সক্ষমতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ছাড়া যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি ডিগ্রি, গবেষণা, পেটেন্ট ও বাণিজ্যিকীকরণের পূর্ণ সুযোগ প্রদান, শিল্প-সংযুক্ত পাঠ্যক্রম, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ (অ্যাপ্রেন্টিসশিপ), বিদেশি ভাষা শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে কর্মসংস্থানযোগ্য করে তোলার প্রস্তাব দেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে সহায়ক ও উন্নয়নমুখী নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি সমন্বিত জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন এপিইউবির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। দলে আরও ছিলেন সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ ও কে বি এম মঈন উদ্দিন চিশতি, ট্রেজারার কায়ুম রেজা চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য আব্দুল কাসেম হায়দার, কাজী জাহেদুল হাসান ও নওশাদ শামসুল আরেফিন এবং সচিবালয়ের পরিচালক বেলাল আহমেদ। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা ও সরকারের প্রত্যাশা নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা যায়।