তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ এনেছে আইএসডিবি–বিআইএসইডব্লিউ আইটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজ্ঞান, বাণিজ্য বা মানবিক — যেকোনো বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য এই স্কলারশিপের আওতায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। যাঁরা নানা কারণে তথ্যপ্রযুক্তিতে একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন করতে পারেননি, তাঁরাও এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বপ্ন ছোঁয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জেদ্দার যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি নিজস্ব অর্থায়নে কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো বিপুল জনগোষ্ঠীকে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করা এবং দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সুদক্ষ ট্রেইনারদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পাঠদান করা হয়। প্রতি মাসে বিভিন্ন মডিউলের ওপর লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ধারাবাহিক মূল্যায়নে কোনো প্রশিক্ষণার্থীর ঘাটতি ধরা পড়লে তাকে অতিরিক্ত সময় পাঠদানের সুযোগ দেওয়া হয়।

এই স্কলারশিপের আওতায় মোট ১৩টি কোর্সে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। আবেদনের জন্য চলমান রাউন্ডে প্রার্থীর বয়সসীমা ৩০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। তবে পূর্ববর্তী কোনো রাউন্ডের কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না। ডিপ্লোমাধারী প্রার্থীদের জন্য সব কোর্স শুধুমাত্র ঢাকায় পরিচালিত হয়। প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর জন্য প্রায় দুই লাখ টাকা সমমূল্যের কোর্স সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারীদের প্লেসমেন্ট সেলের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিবছর সহস্রাধিক প্রশিক্ষণার্থী এই প্রোগ্রাম থেকে স্নাতক হয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। অনেকে আইটি উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আবার অনেকেই অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারীদের ৯২ শতাংশই বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি বা সংশ্লিষ্ট পেশায় কর্মরত রয়েছেন।

যোগ্যতার দিক থেকে স্নাতক বা ফাজিল পাস, অথবা মাস্টার্স বা কামিলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং — শুধুমাত্র কম্পিউটার, টেলিকমিউনিকেশন, ইলেকট্রনিকস, সিভিল, আর্কিটেকচার, সার্ভে বা কনস্ট্রাকশন বিষয়ে পাস করা প্রার্থীদের জন্যও সুযোগ রয়েছে।

স্নাতকদের জন্য কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েব অ্যান্ড মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ইউজিং স্প্রিং বুট, অ্যান্ড্রয়েড অ্যান্ড ফ্লাটার; ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট উইথ লারাভেল, রিঅ্যাক্ট, ভিউ.জেস অ্যান্ড ওয়ার্ডপ্রেস; ক্রস প্ল্যাটফর্ম অ্যাপস ইউজিং এএসপি.নেট, অ্যাঙ্গুলার অ্যান্ড রিঅ্যাক্ট; ওরাকল ডেটাবেজ অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট; নেটওয়ার্ক সলিউশন অ্যান্ড সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন; এবং গ্রাফিকস, অ্যানিমেশন অ্যান্ড ভিডিও এডিটিং।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য আলাদা কোর্সের তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্কিটেকচারাল অ্যান্ড সিভিল ক্যাড; ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ইউজিং লারাভেল অ্যান্ড রিঅ্যাক্ট; নেটওয়ার্ক সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন; গ্রাফিকস, ভিডিও এডিটিং অ্যান্ড মোশন গ্রাফিকস; ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ইউজিং এসপি.নেট; ক্লাউড কম্পিউটিং ইউজিং ওরাকল অ্যাপেক্স; এবং থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন।

রাউন্ড ৭৪-এর আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এই প্রোগ্রামটি দেশের আইটি প্রশিক্ষণ খাতে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।