রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে গতকাল শনিবার আয়োজিত হলো অক্সফোর্ডএকিউএ লিডারশিপ কনফারেন্স ২০২৬। দেশের আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোর ১৮০ জনের বেশি স্কুলপ্রধানের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যসহ নানা দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদেরা এই সম্মেলনে অংশ নেন। অক্সফোর্ডএকিউএর বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অক্সফোর্ডএকিউএর সঙ্গে আপনার স্কুলকে আরও এগিয়ে নিন’।
সম্মেলনে স্কুল পরিচালনার কৌশল, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা পদ্ধতি এবং স্কুলগুলোকে ঘিরে থাকা নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সুযোগ নিয়েও মত বিনিময় করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর সাকিব এরশাদ, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব মার্কেট (ইংলিশ অ্যান্ড এক্সামস) জুনায়েদ আহমেদ, মেরিডিয়ান ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও একিউএর সাবেক সিওও মার্ক বেডলো এবং অক্সফোর্ডএকিউএর হেড অব কোয়ালিফিকেশনস জেনিফার ডুগান।
প্রধান আলোচক মার্ক বেডলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল শিক্ষা উদ্যোগ ও চমৎকার কার্যক্রমের উদাহরণ তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কীভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে তা নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে শিক্ষাখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
ববি হাজ্জাজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে অক্সফোর্ডএকিউএ ‘বাংলা’ বিষয়টিকে ইন্টারন্যাশনাল জিসিএসই পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা তিনি স্বাগত জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থায় নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন উল্লেখ করেন, অক্সফোর্ডএকিউএর ‘গ্লোবাল স্কিলস প্রজেক্ট’ এবং ‘এক্সটেন্ডেড প্রজেক্ট কোয়ালিফিকেশন’ শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে শেখার ও নিজস্ব প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ দেয়। জুনায়েদ আহমেদ জানান, মানসম্মত ও বিশ্বস্ত পরীক্ষা আয়োজনে যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সাকিব এরশাদ বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষার উন্নতি এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। জেনিফার ডুগান বলেন, যুক্তরাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে অক্সফোর্ড ও একিউএর রয়েছে দীর্ঘ ও ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস। বাংলাদেশের স্কুল ও শিক্ষার্থীদের উপর তাদের শিক্ষাপদ্ধতির ইতিবাচক প্রভাব দেখে তিনি আনন্দিত।
সম্মেলনে একটি ইন্টারেক্টিভ প্যানেল আলোচনা এবং সম্মিলিত সংলাপ সেশনও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্কুলপ্রধানরা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ ও স্কুলের মানোন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত পরামর্শ বিনিময় করেন।




