ঢাকার নবাবগঞ্জের বর্ধনপাড়ায় অবস্থিত ৩১০ বছরের প্রাচীন বড় পালবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে মহা অষ্টমীর সকালে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। ঢাকের শব্দ এবং মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে দেবীর চরণে অঞ্জলি দিতে নারী-পুরুষের দীর্ঘ ও সুশৃঙ্খল সারি দেখা যায়। স্থানীয় ভক্তদের পাশাপাশি এই বিশেষ দিনে মন্দিরে উপস্থিত হয়েছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার ও চন্দননগর থেকে আসা অনেক আত্মীয়। তাঁদের অনেকের জন্যই এই সফর ছিল দীর্ঘদিনের ফেলে আসা শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া।

ভারতের কোচবিহার জেলা থেকে আসা যদুনাথ পাল এবং তাঁর স্ত্রী হেনা পাল দীর্ঘ ৩৮ বছর পর তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটিতে ফিরেছেন। অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ার সময় তাঁদের দুজনকে গভীর প্রার্থনায় মগ্ন দেখা যায়। যদুনাথ পাল স্মৃতিচারণ করে জানান, এই গ্রামের সঙ্গে তাঁর অনেক পুরনো স্মৃতি জড়িয়ে আছে। দীর্ঘ সময় পর ফিরে এসে তিনি লক্ষ্য করেন যে অনেক কিছু বদলে গেলেও গ্রামের সেই পরিচিত আমেজটি এখনও রয়ে গেছে, যা তাঁকে অত্যন্ত আনন্দিত করেছে।

একইভাবে, পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন ৪৩ বছর বয়সী ইতি পাল। প্রায় ১২ বছর পর তিনি তাঁর দিদির বাড়িতে এবং পূর্বপুরুষদের এই মন্দিরের পূজায় অংশ নিতে এসেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কলকাতার চাকচিক্যময় পূজার আকর্ষণও তাঁকে ইছামতী নদীর তীরের এই স্মৃতিময় গ্রামে টেনে এনেছে। আগামী দশমীর উৎসব শেষ করে তাঁরা পুনরায় ভারতে ফিরে যাবেন।

পূজা কমিটির সভাপতি শ্যামল পাল জানান, দেশি-বিদেশি অতিথি এবং আত্মীয়-স্বজনের আগমনে এবারের শারদীয় উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তিনি আরও জানান যে, নবাবগঞ্জে এবার মোট ২০১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মধ্যে বর্ধনপাড়ার এই মন্দিরটি তিন শতাব্দীরও বেশি পুরনো। তিনশ বছরেরও বেশি ইতিহাস সমৃদ্ধ এই স্থাপনাটি আজও পারিবারিক ঐতিহ্য ও স্মৃতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে টিকে আছে। প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতায় পূজা আয়োজনে কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। অঞ্জলি শেষে ভক্তরা মন্দিরের প্রাচীন স্থাপত্য এবং পরিচিত মানুষদের সঙ্গে আলাপচারিতার মাধ্যমে এক মিলনমেলায় মেতে ওঠেন।