সম্প্রতি সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম এবং সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় কালো বোরকা পরা এক নারীকে তলোয়ার দিয়ে শিরশ্ছেদ করা হচ্ছে এবং তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন। তবে বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ভিডিওটি সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই বাংলাদেশির নয়, বরং ২০১৫ সালে মিয়ানমারের এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পুরনো দৃশ্য। ওই নারী তাঁর সৎকন্যাকে যৌন নিপীড়ন ও হত্যার দায়ে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
১৪ অক্টোবর সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানানো হয়। ঘটনার পর ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়ে বিস্তারিত জানতে চায়। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছেও একই অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় দণ্ডিতরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না এবং নিয়মিত বন্দি তালিকায় নাম থাকলেও শাস্তির তথ্য কেন গোপন রাখা হয়েছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আপিল আদালতের ১৩ সদস্যের প্যানেলের রায়ের পর পৃথক সেলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ইন্টারনেটে আরও কিছু বিভ্রান্তিকর দাবি সামনে এসেছে। একটি ভিডিওতে কফিন বহন করার দৃশ্য দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, নজরুল ও সুইটির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। কিন্তু হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁদের মরদেহ এখনো দেশে পৌঁছায়নি। রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, ওই ছবিটি চলতি বছরের মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী মুরাদ শেখের মরদেহ দেশে আনার সময়ের।
এছাড়া, দণ্ডিত ওই দুই ব্যক্তি স্বামী-স্ত্রী ছিলেন এবং ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন—এমন একটি ফটোকার্ডও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে নজরুল ইসলামের বাবা আবদুল বাছির এই দাবির সম্পূর্ণ খণ্ডন করে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে অবিবাহিত ছিল। নজরুল ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজে যান এবং আট মাস পর গ্রেপ্তার হন। তিন বছর কারাগারে থাকার পর গত ১১ অক্টোবর শেষবারের মতো পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁর বাবা ও মা সরকারের কাছে দ্রুত ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন।




