পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের এফ-৭/১ সেক্টরে এক চীনা নাগরিকের বাসভবনে ডাকাতির ঘটনায় চার পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম 'ডন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের পোশাক পরিহিত এই কর্মকর্তারা এক সহযোগীর সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধটি ঘটান।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তি ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে গৃহকর্মীদের আবাসে গিয়ে একজন নিরাপত্তা রক্ষী এবং একজন চালককে ঘুম থেকে জাগিয়ে বাইরে নিয়ে যান। বাড়ির বাইরে পুলিশের ঘূর্ণায়মান বাতি সংবলিত একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল, যেখানে সশস্ত্র অবস্থায় চারজন ব্যক্তি বসে ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজনের পরনে ছিল পুলিশের পোশাক। এরপর তারা রক্ষী ও চালককে গাড়িতে করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করান।
বন্দুকধারীরা এরপর একটি জানালা দিয়ে ভবনের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েন এবং সেখানে বসবাসরত দুই চীনা নাগরিককে বন্দুকের মুখে জিম্মি করেন। ওই দুই বিদেশি নাগরিক এবং তাদের দুই ভৃত্যকে ড্রয়িং রুমে আটকে রেখে ডাকাতরা নগদ ২০ লাখ রুপি এবং ১৫ হাজার রুপি মূল্যের একটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়। বাড়ির প্রথম নিরাপত্তা রক্ষীর সন্দেহ, অন্য একজন রক্ষী ডাকাতদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে গেট খুলে দিয়েছিলেন। মামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, গত ২৯ আগস্ট থেকে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে এটি চতুর্থ ডাকাতির ঘটনা। এর আগের তিনটি ঘটনাই ছিল পুলিশ কর্মকর্তার ছদ্মবেশে সংঘটিত। এর মধ্যে দুটি মামলার তদন্তে রাজধানীর পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরেও জি-১০/৪ সেক্টরে দুই চীনা নাগরিকের বাড়ি থেকে ৮০ লাখ রুপি লুট করার দায়ে তিন পুলিশ সদস্যসহ একটি ডাকাত দলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের অপরাধ ১৩ সেপ্টেম্বরের একটি তদন্তের সময় সামনে আসে।




