শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী ও সন্ধি পূজার আমেজে মুখরিত হয়ে উঠেছে শেরপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। সোমবার সকালে শেরপুর শহরের বাগবাড়ি মহল্লার মাতৃ সেবক সংঘ ও বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাবের মণ্ডপে দেখা গেছে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং ঢাকের বাদ্যির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে পূজার যাবতীয় নিয়মকানুন। উপস্থিত ভক্তরা দেবী দুর্গার কাছে নিজেদের পরিবারের সুখ-শান্তির পাশাপাশি দেশ ও দশের সমৃদ্ধি এবং সার্বিক কল্যাণের জন্য প্রার্থনা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মিতু দে ও মানিক সরকার জানান, তারা মায়ের কাছে সবার শান্তি ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাবের পুরোহিত বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী জানান, মহাঅষ্টমী উপলক্ষে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে সিঁদুর, বস্ত্র এবং শাখা দান করেছেন। এছাড়া সন্ধি পূজার বিশেষ রীতি অনুযায়ী মাকে চৌষট্টি নৈবেদ্য অর্পণ করে পূজা সম্পন্ন করা হয়েছে। শেরপুর জেলার মোট পাঁচটি উপজেলা জুড়ে এবার মোট ১৬৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

অষ্টমী তিথির অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন হলো কুমারী পূজা, যেখানে বিশুদ্ধ নারীর রূপ হিসেবে এক কুমারী বালিকাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। এই ঐতিহ্য বজায় রেখে রোববার শেরপুরের নয়আনী বাজার পোদ্দার বাড়িতে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা উদযাপন কমিটির তথ্যমতে, এবারের পূজায় ৮ বছর বয়সী আরাধ্যা চক্রবর্তীকে 'জীবন্ত রূপ' হিসেবে নির্বাচন করা হয়, যার শাস্ত্রীয় নাম রাখা হয় 'পূঞ্জিকা'।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই বিশেষ পূজা শেষ হয় দুপুর ২টায়। পূজা শুরুর আগে কুমারী বালিকা আরাধ্যাকে স্নান করিয়ে মুকুট, ফুলের মালা, টিপ এবং আলতা দিয়ে সাজিয়ে মণ্ডপে অধিষ্ঠিত করা হয়। এরপর অগ্নি, জল, বাতাস, পুষ্প ও বস্ত্র—এই পাঁচ উপাদানের মাধ্যমে কুমারী মায়ের পূজা সম্পন্ন হয় এবং দেবীর গলায় পুষ্পমাল্য পরানো হয়। পুরো অনুষ্ঠান চলাকালীন নারী ভক্তদের উলুধ্বনি এবং জয়ধ্বনিতে প্রাঙ্গণটি মুখরিত ছিল। পরিশেষে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।