নৈবেদ্য, আরতি, ভোগ এবং যজ্ঞসহ নানা শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেরপুরে মহানবমী পূজা উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জেলার বিভিন্ন মন্দির ও দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে এই পূজা সম্পন্ন করেন।
শেরপুর শহরের অন্যতম প্রাচীন দুটি পূজা মণ্ডপ—রঘুনাথ বাজার কালী মন্দিরের মুক্তি সংঘ এবং চকবাজারের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থিত সমবায় সংঘের মণ্ডপে প্রচুর ভক্তের সমাগম দেখা যায়। পুরোহিতের সঙ্গে মন্ত্রপাঠ করে ভক্তরা বেলপাতা, ফুল ও দূর্বাসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দেবী দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন। পূজা পরিচালনাকারী পুরোহিত বিপ্রপ চক্রবর্তী রতন ও বাবু চক্রবর্তী জানান, ফল-ফলাদি, নৈবেদ্য, আরতি এবং ভোগ নিবেদনের পর প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়েছে।
রঘুনাথ বাজার কালী মন্দিরে ভক্তি নিবেদনের পর স্থানীয় বাসিন্দা দুর্গা মালা তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, মা দুর্গার কাছে সকলের সুস্থতা ও দেশের শান্তির প্রার্থনা করেছেন তারা। মা যেন সবাইকে আশীর্বাদ করেন এবং দেশ শান্তিতে থাকে, এটাই তাঁদের কামনা।
মহানবমীর পূজা শেষ হওয়ার পরপরই মণ্ডপ ও মন্দিরগুলোতে দেবী বিদায়ের সুর বেজে উঠেছে। এই পরিবেশের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় বাসিন্দা মমতা পাল বলেন, প্রতি বছর দেবী দুর্গা তাদের মাঝে আসেন এবং পরদিন তিনি বিদায় নেন। আগামী বছর কে পাশে থাকবে তা ভেবে মন খারাপ হলেও দেবী যেন সবার বিপদ দূর করে কল্যাণ করেন, সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন তিনি। একই sentiment প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা রানী সাহা, মানস কর এবং প্রকাশ সাহাও।
এদিকে, চকবাজার সমবায় সংঘের আয়োজক মিঠুন কর জানান, তাদের এই ক্লাবটি শেরপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ৮৯ বছর ধরে তারা এই নির্দিষ্ট স্থানে পূজা আয়োজন করে আসছেন।




