রাস্তা পার হওয়ার জন্য হাত তুলে যানবাহন থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি। শরীয়তপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা রতন পোদ্দার গত বুধবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুর শহরের ধানুকা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন। শরীয়তপুর-মাদারীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ১৭ সেকেন্ডের ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ধানুকা এলাকায় গিয়েছিলেন রতন। সেখানে রাস্তা পার হওয়ার সময় তিনি দুই হাত উঁচু করে আসা যানবাহনগুলোকে থামানোর সংকেত দিচ্ছিলেন। তাঁর ইশারায় বেশ কিছু গাড়ি থামলেও শরীয়তপুর আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির একটি মিনিবাস থামেনি এবং তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ বাসটির পিছু ধাওয়া করে চালকসহ সংশ্লিষ্টদের ধরে ফেলেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের পুলিশের হাতে বুঝিয়ে দেন।

গুরুতর আহত রতনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হচ্ছিল, কিন্তু রাত নয়টার দিকে রাজধানী অভিমুখে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম নিশ্চিত করেছেন যে, পুলিশ অভিযুক্ত চালককে আটক করেছে এবং দুর্ঘটনাটি ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়া বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

রতন পোদ্দার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যুগল বালা পোদ্দারের পুত্র ছিলেন। তিনি বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার পরিচালনা করতেন। রতনের প্রতিবেশী শ্যামল সাহা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানান, প্রায় এক মাস আগে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে রতনের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। স্ত্রীর অকাল প্রয়াণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। রতনের দুই সন্তান রয়েছে, যারা এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়লেন।