টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার সখীপুর–বাসাইল সড়কের নলুয়া বাজার এলাকায় স্বাস্থ্য সহকারী আওয়াল শফিকের (৪০) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আওয়াল শফিক ছিলেন যাদবপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী এবং প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেনের সন্তান। একইসঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের ফুফাতো বোনের ছেলে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টার দিকে বেড়বাড়ী সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন আওয়াল শফিক। দুপুর ১২টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলে করে নলুয়া বাজারের দিকে রওনা হন। তবে বেলা পৌনে একটার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার ওপর তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে স্বজনরা এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনো সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যাদবপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে আওয়ালের মাথার এক পাশ থেঁতলে গিয়েছিল এবং গলায় কাটা দাগ ছিল। সবচেয়ে উল্লেখ্য বিষয় হলো, পাশে পড়ে থাকা মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল এবং আশপাশে কোনো ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের মতে, আওয়ালের সঙ্গে বেশ কিছু মানুষের বিরোধ ছিল, যা এই ঘটনার পেছনে কারণ হতে পারে।

ঘটনার পর ওইদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। এরপর তিনি বোয়ালী গ্রামে নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সমবেদনা জানান। পরিবারের সদস্যদের দাবি শোনার পর তিনি সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের স্ত্রী তানিয়া আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সখীপুর থানার তদন্ত পরিদর্শক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।