শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে তিন আইনজীবীকে শারীরিক নির্যাতন এবং দুটি চেম্বার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির একটি নির্দিষ্ট অংশের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে। গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। হামলার শিকার হওয়া আইনজীবীরা হলেন—সানোয়ার মল্লিক, শাহীন খান এবং তানিয়া সুলতানা। তাঁরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সংগঠন 'বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ'-এর সদস্য বলে জানা গেছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কয়েকজন আইনজীবী। এই কর্মসূচির প্রতিবাদ জানাতে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী ও সমর্থক আদালত চত্বরে মিছিল করেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই মিছিল চলাকালীন সানোয়ার মল্লিককে প্রথমে আদালত ভবনের সিঁড়িতে মারধর করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে টেনে সামনে এনে পুনরায় শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। সানোয়ার মল্লিকের দাবি, মাহবুব মোর্শেদ ও তাঁর ছেলে মিহির রড দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেছেন। আতঙ্কের কারণে তিনি হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
অন্যদিকে, মিছিলের পর বিএনপির প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মী আইনজীবী সমিতির পাশের একটি ভবনে থাকা শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানার চেম্বারে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তানিয়া সুলতানা জানান, হামলাকারীরা তাঁদের চেম্বারে ঢুকে ভাঙচুর করে এবং তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর করে। এই সময় শাহীন খান আত্মরক্ষার জন্য টয়লেটে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে সেখানেও হামলা চালায়। আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা বিষয়টি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতিকে অবহিত করেছেন।
তবে এই মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ। তাঁর মতে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাম করে কিছু লোক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, যার প্রতিবাদে বিএনপি মিছিল করেছে। মিছিলের কোনো সদস্য সংক্ষুব্ধ হয়ে কিছু করে থাকতে পারে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি ঘটনার কথা জানতে পেরেছেন এবং সমিতি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা না পড়ায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




