বরিশাল নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকেয়া আজিম সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে আমেনা খানম (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ওই নারীর শয়নকক্ষ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করে। নিহত আমেনা খানম হিজলা উপজেলার দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষিকা এবং ওই উপজেলার খুন্না বাজার এলাকার মো. মোশারফ আলীর স্ত্রী। তিনি প্রবাসী মো. শাহবুদ্দিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া বাসায় একা বসবাস করতেন।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, আমেনা খানমের বড় ছেলে, যিনি ঢাকায় ব্যাংকে কর্মরত, তিনি মায়ের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে এবং ফোন বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে বরিশালে চলে আসেন। এরপর তিনি থানায় খবর দিলে পুলিশ তাঁর সাথে ভাড়া বাসায় যায়। পুলিশ দেখতে পায় কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ছেলের কাছে থাকা চাবি দিয়ে তালা খোলার পর খাটের ওপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায় এবং ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘরের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এক বা দুই দিন আগেই এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। খুনিরা হত্যা করার পর বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ফরেনসিক, ক্রাইম এবং সিআইডি টিম ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উপ-পুলিশ কমিশনার।
লুটের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের সন্তানের দাবি, তাঁর মায়ের গলায় একটি স্বর্ণের চেইন ছিল। মূল্যবান সামগ্রী খোয়া গেছে কি না তা নিয়ে তদন্ত চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, কাউনিয়া থানার পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন জানান, গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে শেষবার ছেলের সাথে মায়ের কথা হয়েছিল। বুধবার সারাদিন ফোন বন্ধ থাকার পর রাতে ছেলে পুলিশ নিয়ে বাসায় গিয়ে এই দৃশ্য দেখেন। তবে ছেলে সরাসরি বাসায় না গিয়ে প্রথমে থানায় কেন গেলেন, তা নিয়ে পুলিশের মনে প্রশ্ন রয়েছে এবং এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। দুপুরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।




