রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষককে লক্ষ্য করে ফোন কলের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির' সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। গত ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে এই হুমকিগুলো দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস এবং নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন ও শিক্ষক কৌশিক সরকার এই ঘটনার শিকার হয়েছেন।
ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। তিনি জানান, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ফোন করে নিজেকে সিরাজ শিকদারের ভাই এবং পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিতে হবে, অন্যথায় তার পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ক্ষতি করা হবে। অধ্যাপক শাহরিয়ার প্রথম আলোকে জানান, ফোনে তাকে ভয় দেখানো হয় এবং বলা হয় যে পুলিশ বা র্যাবের সাহায্য নেওয়া বৃথা। হুমকিদাতা আরও বলেন, "আপনার মাথায় তো রিভলবার ঠেকিয়ে বলা হচ্ছে না, এত লাখ দেন; আপনি বলুন কত দেবেন?"
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, হুমকি দেওয়া ফোন নম্বরটি মাদারীপুর থেকে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং সিমটি রেজাউল করিম নামক এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অধ্যাপক শাহরিয়ার এখন আরও বেশি আতঙ্কিত বোধ করছেন। অন্যদিকে, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ৮ সেপ্টেম্বর শিমুল বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে জানান যে, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি—সর্বহারার অনেক নেতা-কর্মী গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কারাবন্দি হয়েছেন। তাদের মুক্তির জন্য অর্থ সহায়তা দাবি করা হয় এবং না দিলে হুমকি দেওয়া হয়। ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তাকেও একই পরিচয়ে ফোন করা হয়েছিল, তবে তিনি দীর্ঘ আলাপ না করে ফোনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষক একই ধরনের হুমকির শিকার হয়েছেন। এই বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজুন নিশ্চিত করেছেন যে, পুলিশ একটি অভিযোগ পেয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।




