সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় অভিযুক্ত তার মামা ওবায়দুর রহমানকে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার আদালত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাতে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে অবস্থিত ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর ওই রাতেই এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ subsequently আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-র তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার আসামির উপস্থিতিতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং হারুন-অর-রশীদ।
শুনানির সময় হারুন-অর-রশীদ উল্লেখ করেন, গাজী নজরুল ইসলাম এবং মরিয়মের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর তাদের বিয়ের কথা জানা যায়, যদিও কাবিননামা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। এই পুরো ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষেই আত্মহত্যা ছিল নাকি এর পেছনে কোনো হত্যা রহস্য লুকিয়ে আছে, তা উদঘাটনের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে। ওমর ফারুকীও একই মত পোষণ করে জানান, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
অন্যদিকে, ওবায়দুরের আইনজীবী গোলাম সাবের চৌধুরী রিমান্ড আবেদনটি বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। তার দাবি, গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ওবায়দুর। এমনকি মরিয়মের বাবা-মায়ের প্ররোচনাতেই নজরুলের সাথে ওই নারীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নজরুল ইসলাম টাকা ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওবায়দুরের মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন এবং মরিয়মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওবায়দুর নজরুলের চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। আইনজীবীর মতে, নজরুল ইসলাম ইতিমধ্যে দুই দফা রিমান্ডে গেলেও ওবায়দুরের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং বিয়েতে সাক্ষী থাকলেও আত্মহত্যার প্ররোচনায় তার কোনো ভূমিকা নেই। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওবায়দুর রহমানকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




