ওজন কমানোর ব্যাপারে আমাদের সমাজে নানা রকম ধারণা প্রচলিত — কেউ মনে করেন না খেয়ে থাকলেই দ্রুত মেদ ঝরবে, আবার কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্ডিওকেই একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করেন। তবে বাস্তবতা হলো, ফ্যাট লস বা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর প্রক্রিয়া এতটা সরল বা একমাত্রিক নয়। সম্প্রতি ফিটনেস প্রশিক্ষক কেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১১টি তথ্য উপস্থাপন করেছেন, যা শুনতে অবাক লাগলেও যুক্তিসংগত। তাঁর মতে, ক্যালোরির ভারসাম্যই ফ্যাট লসের মূল চালিকাশক্তি — শুধু 'হেলদি' খাবার গ্রহণ বা প্রচুর ঘাম ঝরানো যথেষ্ট নয়।

অনেকে মনে করেন, অ্যাভোকাডো, মধু, বাদাম বা গ্রানোলা স্বাস্থ্যকর হওয়ায় এগুলো ইচ্ছামতো খাওয়া যায়। কিন্তু কোচ কেভ সতর্ক করে বলেছেন, এই খাবারগুলোতে ক্যালোরির পরিমাণ বেশ উচ্চ হতে পারে। ফলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না করলে ওজন কমানোর বদলে উল্টো বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও কতটা খাচ্ছি — সেদিকেও সমান নজর দিতে হবে। শুধু ব্যায়ামে ভরসা রাখলে চলবে না, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও আবশ্যক। তাঁর মতে, প্রতিদিন হাজার সিট-আপ করলেও যদি অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে যায়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

ফিটনেস দুনিয়ায় 'টোনড বডি' শব্দটি খুব জনপ্রিয়, কিন্তু কেভের ভাষায় আলাদা করে টোনিং বলে কিছু নেই। শরীর থেকে চর্বি কমে গিয়ে পেশি দৃশ্যমান হলেই শরীরকে টোনড দেখায় — এটি মূলত ফ্যাট কমানো ও মাংসপেশি গঠনের সমন্বিত ফল। এই দুই প্রক্রিয়াই একসঙ্গে কাজ করে কাঙ্ক্ষিত ফিট লুক আনে।

ওজন কমাতে অনেকেই শুধু দৌড়ানো বা কার্ডিওর ওপর নির্ভর করেন, কিন্তু কেভ বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে ওয়েট ট্রেনিং ফ্যাট লসে আরও কার্যকর হতে পারে। কারণ শক্তিশালী পেশি শরীরকে বিশ্রামের সময়েও বেশি ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বেশি ঘাম ঝরানোর জন্য গরম পোশাক পরে ব্যায়াম করার প্রবণতা রয়েছে অনেকের। কিন্তু ঘাম আসলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রক্রিয়া মাত্র — এটি ওয়ার্কআউটের কার্যকারিতার নির্ভরযোগ্য সূচক নয়। তাই শুধু ঘামের দিকে না তাকিয়ে সামগ্রিক ফিটনেস অগ্রগতি যাচাই করা জরুরি।

আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, ওজন কমানো আর ফ্যাট কমানো একই বিষয়। মাঝে মাঝে শরীরের মেদ কমলেও ওজনের মেশিনে তেমন পরিবর্তন দেখা যায় না — এর কারণ হতে পারে একই সময়ে পেশি বৃদ্ধি। তাই স্কেলের সংখ্যার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে শরীরের গঠন ও ফিটনেসের পরিবর্তন লক্ষ্য করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, স্ন্যাকস বা জাঙ্ক ফুড — কোনো নির্দিষ্ট খাবারই এককভাবে ওজন বাড়ায় না। সমস্যা দেখা দেয় যখন শরীরের প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়। কেভের মতে, অনেকেই অজান্তেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেন, যা ওজন বৃদ্ধির মূল কারণ। সবশেষে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, দ্রুত ফলাফলের পেছনে ছুটে লাভ নেই — বরং দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ ফিটনেস মানে সাময়িক ওজন হ্রাস নয়, বরং এমন একটি জীবনধারা প্রতিষ্ঠা করা যা বয়স বাড়লেও শরীরকে সক্রিয় ও সুস্থ রাখে।