মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা তৃতীয় পর্যায়ে উন্নীত করেছে। এর অর্থ হলো, এই দেশে ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে দেখার আহ্বান জানানো হচ্ছে মার্কিন নাগরিকদের। পাশাপাশি, দেশটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কাকে গুরুতরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থ যুক্ত স্থাপনাগুলোতে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনে সক্রিয় ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের কার্যকলাপের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের কিছু অঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কাও সতর্কতায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের জন্য আগে থেকেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা জারি রয়েছে। সেখানে ভ্রমণ না করতে মার্কিন নাগরিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের চলমান গৃহযুদ্ধে ২০১৫ সাল থেকে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। সেই সংঘাতে সৌদি আরব সরাসরি জড়িয়ে পড়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।

সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার পুরোনো দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, হুতিরা পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। সৌদির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দা এবং তাইফ এলাকাতেও একই ধরনের সতর্কতা জারি হয়েছিল।

২০১৭ সালে হুতিরা মক্কায় হামলার চেষ্টা করেছিল বলে সৌদি সরকারের অভিযোগ রয়েছে। তারপর থেকে এটাই প্রথম কোনো নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হলো শহরটিতে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতা তুলে নেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ সতর্কতায় বলা হয়েছে, সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের নিজ নিজ নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।