মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন, যেখানে সামরিক জোটের বদলে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত রোববার তিনি পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া সংক্ষিপ্ত করতে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই মহড়াগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতি 'অনুচিত ও বৈরী' বার্তা পাঠায়।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে, আবার অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে সামরিক প্রস্তুতি দুর্বল হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন নয়, বরং নতুন মাত্রা যোগ করা হচ্ছে—যেখানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে গভীর সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে।

মহড়া কমানোর নির্দেশটি আসলে একটি বৃহত্তর নীতির অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়েছে, পাশাপাশি সামরিক খরচ ভাগাভাগির বিষয়েও নতুন আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। সিউল সরকার অবশ্য এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল সামরিক জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তা বিস্তৃত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জায়গা তৈরি করতেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন। পিয়ংইয়ংকে বারবার সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে আসছেন তিনি, আর সামরিক মহড়া কমানো সেই সংলাপ শুরুর পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এতে উত্তর কোরিয়াকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হলো এবং জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।

এদিকে, জাপান ও অন্যান্য মিত্র দেশ এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নীরব পর্যবেক্ষণ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে এই পরিবর্তন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দলগুলো অবশ্য সরকারের এই অবস্থানকে 'মার্কিন চাপে নতি স্বীকার' বলে অভিহিত করেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মহড়া কমানোর নির্দিষ্ট সময়সূচি বা পরিমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কিছু ঘোষণা করেনি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সামনের মাসগুলোতে নতুন নীতির রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে এবং দুই দেশের নেতারা বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের খসড়া চুক্তি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের সামরিক জোটের ধারা থেকে সরে এসে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সামনে আনার এই কৌশল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে—যদি বাস্তবে তা সফল হয়।