জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করার প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা বর্জন করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিদের এই আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হলেও সরকারবিরোধী পক্ষগুলো এতে অংশ নেয়নি। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দুই প্রতিনিধি সভায় যোগ দিলেও আলোচনার মাঝপথেই বেরিয়ে আসেন।

সংস্থাটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম জানান, আমন্ত্রণের জন্য তিনি বিশেষ কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের শর্ত অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠন না করায় তারা এই সভা বর্জন করেছেন। বৈঠকে তারা নির্দিষ্ট একটি দাবিও পেশ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। হাসনাত কাইয়ুম আরও মনে করিয়ে দেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল এবং সেই নির্ধারিত সময়সীমা এখনো অতিক্রান্ত হয়নি। তাই সবার সাথে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, আজ আয়োজিত এই সভার মূল আলোচ্যসূচি ছিল জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতৃবৃন্দের সাথে কমিটির মতবিনিময়। এর আগে বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে দল ও জোটগুলোর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দুজন করে প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিএনপি এবং কিছু রাজনৈতিক দল বৈঠকে অংশ নিলেও জামায়াতে ইসলামিসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এতে যোগ দেয়নি।

গত ৪ আগস্ট সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, রাজনৈতিক দল, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সাথে আলোচনা করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে দল ও জোটগুলোর মতামত জানতে চাওয়া হয়। তবে বিরোধী দলগুলোর স্পষ্ট অবস্থান হলো, গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে আগে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। এই পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত তারা সংবিধান সংশোধনের সরকারি কোনো প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী নয়। এমনকি বিশেষ কমিটিতেও তারা কোনো প্রতিনিধি পাঠাননি। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের যে দলগুলোর বর্তমানে সংসদে কোনো সদস্য নেই, তারাও এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।