কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে অভিভাবকদের বিশেষ সতর্কতার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সন্তানদের কোথায় যাওয়া-আসা হচ্ছে, কাদের সাথে তাদের বন্ধুত্ব এবং তাদের বন্ধু সার্কেল কেমন—তা খতিয়ে দেখা প্রতিটি বাবা-মায়ের দায়িত্ব। অপ্রতিমের করুণ পরিণতি আমাদের এই দায়িত্বের কথা পুনরায় মনে করিয়ে দেয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে নিখোঁজ হয় এবং একদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সানন্দা পাহাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা স্থানীয়ভাবে কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে অপ্রতিম ঘাতক তুহিনের সাথে স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিল। তিনি আরও জানান, অপ্রতিম তার চেয়ে বড় ক্লাসের বন্ধুদের সাথে মিশতে পছন্দ করত, আর সেই সূত্রে তুহিনদের সাথে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। তিনি নিজের শৈশবের উদাহরণ দিয়ে বলেন, বড় ভাইদের সাথে ওঠাবসা করলেও খারাপ ছেলেদের থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের শাসন ও নৈতিক দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বর্তমান সময়ের কিশোর গ্যাংগুলোর কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ফেসবুকের চাকচিক্যময় ছবি ও সিনেমাটিক ভিডিওর মাধ্যমে এরা অল্পবয়স্কদের আকৃষ্ট করে নিজের সার্কেলে টেনে নেয়। গণমাধ্যমের সূত্রে তিনি জানান, আইফোনের লোভে ছবি তোলার প্রলোভন দেখিয়ে অপ্রতিমকে বিভ্রান্ত করে ঘর থেকে বের করে আনা হয়েছিল। ব্যস্ততার কারণে হয়তো বাবা-মায়েরা এই যোগাযোগটি বুঝতে পারেননি। তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড কিশোর গ্যাং নির্মূল করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে বলে তিনি মনে করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। অন্যথায় যেকোনো পরিবারের সন্তানের পরিণতি অপ্রতিমের মতো হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, অনেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা দমন, অন্যদিকে বিরোধীদলের নিত্য নতুন কর্মসূচিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এই সবকিছুর মাঝে সামাজিক অপরাধ রোধে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তার মতে, জনসংখ্যার অনুপাতে দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা অপর্যাপ্ত এবং গত ১৬ বছরে এই বাহিনীকে দলীয়করণ করার ইতিহাস সবার জানা।
বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৬ বছরের তৈরি অপরাধ ও অপসংস্কৃতির জঞ্জাল পরিষ্কার করতে সরকারের সহযোগিতা করার বদলে তারা অসহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নাজুক করে ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী। বর্তমানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের বাস arson ও ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলের এক দফার হুমকি রাজপথকে উত্তপ্ত করে তুলছে। ফলে বর্তমান সরকারকে একসাথে দুটি ভিন্নমুখী বিরোধী দলের অপতৎপরতা সামলাতে হচ্ছে, যা রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে সরকারকে সহযোগিতার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।




