জুলাই জাতীয় সনদকে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে দ্রুত সংবিধান সংশোধন বিল আনার চেষ্টা করছে সরকার। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে এই বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা যথাযথভাবে কার্যকর করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।

রোববার দুপুরে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী বিভিন্ন দল ও জোটের শরিকদের সাথে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচনায় ১৫টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এবি পার্টি সরাসরি বৈঠকে অংশগ্রহণ না করলেও কমিটির কাছে তাদের লিখিত মতামত জমা দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় গণফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত না থাকলেও তারা লিখিতভাবে 의견 জানাতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

মতবিনিময়ের পর সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সবার সমর্থন এবং সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি একটি বিশেষ অভিযোগের কথা উল্লেখ করে জানান, কিছু রাজনৈতিক দল মাঠ পর্যায়ে এই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী নয়, তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।

বিশেষ কমিটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন পক্ষের পরামর্শ গ্রহণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত হওয়া মাত্রই তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে ওই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আইন মন্ত্রণালয় এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধনীটি বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংসদের দীর্ঘ বিতর্ক এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব হবে।

তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার মাঝে একটি ভিন্ন সুর শোনা গেছে। বিকেল ৩টার দিকে মতবিনিময় চলাকালীন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এই বৈঠকটি বর্জনের ঘোষণা দেয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে এই বিষয়টি সামনে এলেও এর বিস্তারিত কারণ বা প্রভাব সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।