জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের ভেতরে চলা অভ্যন্তরীণ রেষারেষি ও সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। গত রোববার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৮ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার এবং একজনকে শোকজ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই নির্দেশনাসমূহ ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির কর্তৃক অনুমোদিত।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ শাহরিয়ার, সদস্য ইসরাফিল ইসলাম রাফিল, মাসুম রেজা, ইয়াসিন সাইফ, ইমরান হোসেন ইমন, মনিরুজ্জামান মনির এবং সৌরভুর রহমান সুজনকে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রনেতা কাব্য সাহাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিককে একটি শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এতে তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থেকেও সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘন করার কারণে তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নোটিসে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ওইদিন দুপুরে, যখন ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিকের অনুসারীদের মধ্যে তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া পার্কের আঙিনায় প্রথমে ঝামেলা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের কলাভবন এলাকায় লাঠিসোঁটা সংবলিত সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই ঘটনায় লোক প্রশাসন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. ইমন, অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের মো. মাদুদ এবং আরও দুজন শিক্ষার্থী সাইফ ও আসিফ আহত হন।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের কর্মীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করে আদালতপাড়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তারা দেশীয় অস্ত্র ও স্ট্যাম্প নিয়ে পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে মিছিল ও স্লোগান দেন। উল্লেখ্য যে, গত বুধবার নবীন বরণ ও কনসার্ট চলাকালীন রাত ১২টায় যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও সুমন সরদার গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যেও সংঘর্ষ হয়েছিল, যার ফলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ওই দুই নেতাকে শোকজ করেছিল। তবে বর্তমান ঘটনায় নাহিয়ান বিন অনিককে শোকজ করা হলেও সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।




