রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে যাওয়া ২২৭ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ৫১ জন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ১৩৯ জন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন, আর ৩৭ জন এখনও রুশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে অবস্থান করছেন। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সোমবার রাতে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
রুশ বাহিনীতে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়োগের ঘটনা গত দুই বছর ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন প্রতারণামূলক প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয় যুবকদের রাশিয়ায় আনা হচ্ছে এবং সেখানে তাদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলাও দায়ের হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পুতিন-মোদি বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। যেসব ভারতীয় এখনও রুশ বাহিনীতে রয়েছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। মস্কোতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি জানান।
এর আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাট্টি প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চকে জানিয়েছিলেন, রুশ বাহিনীতে মোট ৪৪ জন ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তখনও জীবিত ভারতীয়দের ফেরত আনতে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে বলে আদালতকে জানানো হয়। কেন এত ভারতীয় রুশ বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন, সেই কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। লোভনীয় বেতন, সামাজিক নিরাপত্তা, আকর্ষণীয় ক্ষতিপূরণ ও নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলে তিনি আদালতকে জানান। অনেক ভারতীয় সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে চুক্তিতে সই করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গতকাল পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠকের পরই পররাষ্ট্রসচিব সংবাদ সম্মেলনে এ-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রুশ বাহিনীতে থাকা ভারতীয়দের অনেককে রান্নাবান্না এবং অন্যান্য সহায়ক কাজেও নিয়োজিত করা হয়েছে। তবে তাদের অবস্থান ও কর্মপরিস্থিতি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।




