জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলিমা মঙ্গলবার আরও পাঁচ বছরের জন্য দ্বিতীয় মেয়াদের শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তবে এই শপথ অনুষ্ঠান এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দেশটিতে নির্বাচন ফল নিয়ে বিতর্ক চলছে এবং প্রধান বিরোধী প্রার্থী গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরকারি হিসেবে ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন হিচিলিমা। বিপরীতে, ৩৮ শতাংশ ভোট পাওয়া রানার-আপ ব্রায়ান মুন্দুবিলে অভিযোগ করেছেন যে নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপি করা হয়েছে।

ফলাফলের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর শেষ দিনে আদালত এলাকা অবরুদ্ধ থাকায় মুন্দুবিলে মামলা দায়ের করতে ব্যর্থ হন। যদিও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটগ্রহণের দিনটি মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন, তবে ভোট গণনার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের মতে, অনেক গণনাকেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার সাথে সাথে তা সঠিক শিটে নথিভুক্ত করা হয়নি এবং ডিজিটাল ও কাগজের রেকর্ডের মধ্যে যাচাইকরণের দুর্বলতা ছিল। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, রিটার্নিং অফিসাররা প্রায়শই সদর দপ্তরের নির্দেশের জন্য কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিলেন।

নির্বাচনের পর রাজধানীর লুসাকায় মুন্দুবিলের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি ভবনে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। এই অভিযানে একজন প্রাক্তন মন্ত্রীর মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতা গ্রেপ্তার হন। দেশটির কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে যে, বিরোধী দল সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিকল্পনা করছিল, যদিও তারা এই দাবি অস্বীকার করেছে। ঘটনার পর মুন্দুবিলে এবং তার সহযোগী মেকবে জুলু আত্মগোপন করেন, তবে গত সপ্তাহে পুলিশ তাদের আটক করে এবং সপ্তাহান্তে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।

২০২১ সালে যখন ৬৪ বছর বয়সী হিচিলিমা প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন, তখন জাম্বিয়া আন্তর্জাতিক ঋণের বোঝা সামলাতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ২৪ শতাংশের বেশি। বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি একটি ভেঙে পড়া অর্থনীতির দেশ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। প্রাক্তন এই ব্যবসায়ী আন্তর্জাতিক ঋণ পুনর্গঠন এবং বিদেশি ঋণদাতাদের সাথে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ করেছেন। ফলে মুদ্রাস্ফীতি কমলেও জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো সাধারণ মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিচিলিমা এখন তার গত পাঁচ বছরের কাজের ভিত্তির ওপর নতুন করে উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে চান।

লুসাকায় ন্যাশনাল হিরোস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই শপথ অনুষ্ঠানে কেনিয়া, বতসওয়ানা, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া এবং তানজানিয়াসহ বেশ কয়েকজন আফ্রিকান রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। হিচিলিমার পাশাপাশি তার সহ-প্রার্থী মুতালে নালুমাঙ্গোও শপথ গ্রহণ করবেন। এর আগে মুন্দুবিলে রাজধানীর একটি জাতিসংঘ ভবনে আত্মগোপন করেছিলেন। অন্যদিকে, পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে নিখোঁজ মুততওয়ে কাফওয়ায়া মারা গেছেন। হিচিলিমা তার এই বিজয়ের জন্য বিনয় প্রকাশ করেছেন এবং সকল জাম্বিয়ানদের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।