স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অতীতের স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব নয়, কিন্তু সেই স্মৃতির বোঝা নিয়ে বসে থাকলে উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, অতীত নিয়ে আটকে থাকলে উন্নয়নকাজ হবে না।

বৈঠকে স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ভারতের হাইকমিশনার তাঁদের দেশের স্থানীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এবারের নির্বাচন বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে, কারণ সরকারকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যা ভালো বুঝবে, তা-ই গ্রহণ করা উচিত। দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী দল ক্ষমতায় থাকায় দেশের অবস্থা তারা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবে। তবে দুই দেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি না থাকলে আরেকজন আসবেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত একই থাকবে—সাধারণ মানুষের কল্যাণে যা প্রয়োজন, তা-ই করা হবে।

প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, সবাই সমান, কেউ বড় বা ছোট নয়। ৩০ মিনিটের বৈঠক থেকে তিনি নিজেও অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবেই, তবে সেগুলো মাথায় রেখেই পথ চলতে হবে।

বৈঠকে অবাধ বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান হাইকমিশনার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি। তবে দুই দেশ মিলেমিশে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভারত ও বাংলার আকাশ, বাতাস এবং যন্ত্রণা একই।