ঢাকার ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ইতালির স্বাদ ও সংস্কৃতিকে সামনে নিয়ে এলো রেনেসন্স ঢাকা গুলশান হোটেল। হোটেলের ‘বাহার’ রেস্তোরাঁয় ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ উইকেন্ড থিম নাইট ‘বুয়োন আপেতিতো’। ইতালীয় ভাষায় এই শব্দটির অর্থ হলো ‘আহার শুভ হোক’। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি বৃহস্পতিবার, শুক্রবার এবং শনিবার রাতের ডিনারে এই আয়োজন চলবে। জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমীনসহ হোটেলের সংশ্লিষ্টরা এই আয়োজনে অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছেন।
আয়োজনটির বিশেষত্ব ছিল এর সূচনাপর্ব। প্রথাগত লাল ফিতা কাটার বদলে তিরামিসু ডেজার্টের ওপর কফি ডাস্টিং করার মাধ্যমে সন্ধ্যার সূচনা করা হয়। ইতালির জনপ্রিয় এই মিষ্টিটি কফি, মাসকারপোন এবং লেডিফিঙ্গার বিস্কুটের স্তরে তৈরি, যা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো ইতালীয় রান্নার সরলতা এবং গুণগত মানের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলা।
ভোজের শুরু হয় সদ্য বেক করা আর্টিজান ব্রেড, সল্টেড ও অরিগানো বাটার এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিপাস্তি বা স্টার্টারের মাধ্যমে। মূল খাবারের আকর্ষণ হিসেবে ছিল লাইভ কুকিং স্টেশনে তৈরি পাস্তা, যেখানে অতিথিরা নিজেদের পছন্দমতো উপকরণ দিয়ে খাবার প্রস্তুত করে নিতে পারেন। হোয়াইট সস, মাশরুম ও অরিগানোর সমন্বয়ে তৈরি পাস্তাটি স্বাদে মোলায়েম হলেও চিজের পরিমাণ আরও বেশি হলে ভালো হতো বলে মনে করা হয়েছে। এছাড়া মেনুতে ছিল ঐতিহ্যবাহী লবস্টার সুপ ‘জুপ্পা দি আরাগোস্তা’ এবং ‘মিনেস্ত্রোন’ স্যুপ।
মূল মেনুর অন্যান্য আকর্ষণীয় পদের মধ্যে ছিল ব্রেইজড শর্ট রিবস, মিনি চিকেন রুলাডো, পোমোদোরো কুলির সঙ্গে গ্রিল করা পুরভরা ক্যালামারি, এগপ্লান্ট পারমাজিন, চিজ ক্যালজোনি এবং পনির ও আলুর বল ‘আরানচিনি’। alongside এর সাথে পরিবেশন করা হয়েছে ইতালিয়ান লেমন হার্ব রাইস। তবে কাঠের আগুনে গ্রিল করা সি-ফুড ও মাংসের পদগুলো অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। যদিও আয়োজনের প্রথম দিন রিসোত্তোর অনুপস্থিতি এবং লাইভ পিজা স্টেশনের অভাব কিছু ভোজনরসিকের মনে আক্ষেপ তৈরি করেছে।
মিষ্টান্ন হিসেবে তিরামিসুর পাশাপাশি পরিবেশন করা হয়েছে প্যানা কোটা, তোর্তা কাপ্রেসে, পিস্তাশিও ক্যানোলি এবং ইতালিয়ান ক্রিম ব্রুলে। পানীয় হিসেবে ফোগোলা ক্রিস্প ও ব্লু এম্পলিফ সানরাইজ অতিথিদের মন জয় করে নিয়েছে।
এই বিশেষ ভোজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ৩,৯৫০ টাকা (নেট)। তবে নির্দিষ্ট ব্যাংক কার্ডধারী, জিপি স্টার সদস্য, বাংলালিংক অরেঞ্জ ক্লাব গ্রাহক এবং দলগত বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আড্ডা দিয়ে ইতালীয় খাদ্য সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা নিতে এই আয়োজনটি একটি চমৎকার সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



