বিজ্ঞানচিন্তা পত্রিকার একটি সংখ্যায় প্রকাশিত রম্য রচনায় আপেলকে কেন্দ্র করে তিনটি ভিন্ন গল্পের অবতারণা করা হয়েছে। গল্পগুলোতে বিজ্ঞানের ক্লাসিক ঘটনা, প্রেমের সম্পর্ক এবং আধুনিক প্রযুক্তির লোগো — সবকিছু মিলিয়েই হাস্যরস তৈরি করা হয়েছে।
সবচেয়ে পরিচিত গল্পটি শুরু হয় আইজ্যাক নিউটনের কিংবদন্তি ঘটনা দিয়ে। কথিত আছে, আপেলগাছের নিচে বসে থাকা অবস্থায় একটি আপেল পড়ায় নিউটনের মনে প্রশ্ন জাগে — আপেলটি কেন নিচে পড়ল? এই চিন্তাভাবনার ফলেই তাঁর বিখ্যাত তিনটি সূত্র আবিষ্কৃত হয়। স্কুলের একজন বিজ্ঞান শিক্ষক তার ছাত্রদের কাছে এই গল্প বলার পর প্রশ্ন করেন, গল্প থেকে তারা কী শিক্ষা পেল? উত্তরে ছাত্ররা জানায়, ক্লাসে বসে না থেকে সবাইকে আপেলগাছের তলায় বসে থাকতে হবে। তারপর সবাই হুড়মুড় করে বেরিয়ে যায়, কারণ তাদের স্কুলের পেছনেই একটি আপেলগাছ ছিল।
একই স্কুলে আরেকটি ঘটনায় বিজ্ঞান শিক্ষক নিউটনের গল্প বলার শেষে আপেলটি কেন গাছ থেকে মাটিতে পড়ল — এমন প্রশ্ন করেন। এবার ছাত্ররা সমস্বরে উত্তর দেয়, 'স্যার, ওপরে যে আপেল খাওয়ার লোক নেই।' এই উত্তর শুনে বোঝা যায়, ক্লাসের ছাত্ররা বিজ্ঞানের সূত্রের চেয়ে পেটের ক্ষুধা নিয়েই বেশি ভাবিত।
আপেল নিয়ে তৃতীয় গল্পটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের। দুই বাচ্চার কথোপকথনে উঠে আসে অ্যাপল কম্পিউটারের লোগোর বিষয়। তাদের মধ্যে একজন প্রশ্ন করে, অ্যাপলের লোগোর আপেলটির এক কোনায় কেন কামড়ের দাগ আছে? অন্যজন সোজাসাপ্টা উত্তর দেয় — ওই কোনাটায় পোকা খাওয়া ছিল, তাই সেটি কেটে বাদ দিয়েছে স্টিভ জবস।
এছাড়াও গল্পগুলোর সঙ্গে আরেকটি কৌতুকও স্থান পেয়েছে। এক ডাক্তার ও এক বিজ্ঞানী একই তরুণীর প্রেমে পড়েন। ডাক্তারের ইনকাম ভালো হওয়ায় তিনি প্রায় প্রতিদিন দামি উপহার দেন। বিজ্ঞানী তার পুরো আয় গবেষণায় ঢেলে দিলেও প্রতিদিন তরুণীকে একটি করে লাল আপেল উপহার দেন। ডাক্তারের মনে সন্দেহ জন্মায় — কেন প্রতিদিন শুধু আপেল? বিজ্ঞানী তখন উদাস হয়ে বলেন, 'অ্যান অ্যাপল আ ডে কিপস দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে' — অর্থাৎ দিনে একটি আপেল খেলে ডাক্তারের প্রয়োজন পড়ে না। এই বাক্যটির মাধ্যমে তিনি প্রেমের প্রতিযোগী ডাক্তারকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দেন।
রম্য লেখকদের এই রচনাটিতে বিজ্ঞানের ঘটনা ও আধুনিক প্রযুক্তির লোগোকে হালকা চালে উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখাটির শেষে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি বিজ্ঞানচিন্তার ২০২৩ সালের এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।




