রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঠিক গতিপথ বজায় রাখতে জবাবদিহিতার কোনো বিকল্প নেই। শুক্রবার দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সাপ্তাহিক ‘গৌরনদী পরিক্রমা’র প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।
অনুষ্ঠানে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের মতো রাষ্ট্র ও রাজনীতির ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক জবাবদিহিতা থাকা অপরিহার্য। জহির উদ্দিনের মতে, এই প্রক্রিয়ার ঘাটতি থাকলে রাষ্ট্র বিপথগামী হতে বাধ্য। উদাহরণ হিসেবে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকারের মাধ্যমে সরকার গঠন করে শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন এবং জবাবদিহিতার মধ্যে ছিলেন। তবে পরবর্তীতে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না দেওয়ার কারণেই তাঁকে বর্তমান পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, পৃথিবীর কোনো সভ্য রাষ্ট্রেই জবাবদিহিহীন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব থাকতে পারে না। বড় কোনো সংবাদমাধ্যমের মালিক হলেও তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। সংবাদমাধ্যমটি নিয়মিত কর প্রদান করছে কি না, কর্মীদের বেতন ও ওয়েজবোর্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না এবং সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে কি না—সে বিষয়ে জনগণের জানার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এছাড়া সংবাদ প্রকাশের আড়ালে কোনো অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেই সময়ে একদল গণমাধ্যম আন্দোলনকারীদের সক্রিয় সমর্থন দিয়েছিল। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বিশেষ সমর্থন ও ভূমিকার কারণেই কিছু তরুণ রাজনৈতিক কর্মী জাতীয় স্তরের নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছেন। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি সেই ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজন, যাতে এই ক্ষমতা দেশের বা সাধারণ মানুষের বিপক্ষে ব্যবহৃত না হয়।
জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন ‘গৌরনদী পরিক্রমা’র মোড়ক উন্মোচন করেন এবং কবি-সাহিত্যিকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির সদস্যসচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, সাবেক আহ্বায়ক আবুল হোসেন মিয়া, সদস্যসচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মাদ হাফিজুর রহমান, গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




