সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হলেও, অনেক প্রার্থী এখনো তা পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই বিষয়ে কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন যে, তারেক রহমানের সরকার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে একটি 'প্রহসনে' পরিণত করেছে। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের অযুহাতে অন্তত এক হাজার মেধাবী তরুণের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। লিখিত ও অন্যান্য সব স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধার প্রমাণ দেওয়ার পরও এই প্রার্থীদের দীর্ঘ আট মাস ধরে অনিশ্চয়তা ও হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তাঁদের নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়নি, যা তরুণদের গভীর হতাশায় ঠেলে দিয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, যাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা ফৌজদারি মামলার রেকর্ড নেই। এমনকি অতীতে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপরাধমূলক কাজের সাথে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণও পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে কোনো স্বচ্ছ বা জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। নাহিদ ইসলামের মতে, মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েও অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত হওয়া কেবল ব্যক্তিগত অবিচার নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এমতাবস্থায়, তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি জানান যে, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত কোনো অভিযোগ নেই, তাদের নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে, কাদের কেন বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে কী কী মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে, তা জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য যে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখানে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী নির্বাচিত হন। ফলাফল প্রকাশের সাত মাসেরও বেশি সময় পর গত বৃহস্পতিবার থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগপত্রপ্রাপ্ত প্রার্থীদের আগামী ১ অক্টোবর তাদের নিজ নিজ জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। তবে অনেক নির্বাচিত প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি এবং এর পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।




