জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরকার যে লোকসান ও ভর্তুকির যুক্তি দিচ্ছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত একটি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্র কি কোনো মুদিদোকান যে এখানে লাভ এবং লোকসানের হিসাব করা হবে? তাঁর মতে, রাষ্ট্র হলো জনগণের সেবামূলক একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যা পরিচালিত হয় সাধারণ মানুষের দেওয়া খাজনা ও ট্যাক্সের টাকায়।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার যদি ভর্তুকি দিতে চায় তবে তা দিতে পারে, কিন্তু মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে তিনবার দাম বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করে জানান যে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরিবহন, উৎপাদন, কৃষি, সেচ এবং বিপণনসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে।
পাশাপাশি, সরকারি মন্ত্রী ও নেতাদের একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জামায়াতে ইসলামী সহায়তা করছে—এমন দাবির বিপরীতে তিনি প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলেন। পরওয়ারের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসর এবং সরকারের একটি অংশই আসলে আওয়ামী লীগকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন জেলায় মিছিল করার সুযোগ পাওয়া নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই মিছিলগুলো সম্ভব হলো, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় উল্টো জামায়াতের নেতা-কর্মীদের আসামি ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে যে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি বিদেশ থেকে যে ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, তা বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি। দিল্লির এই আচরণকে প্রতিবেশীসুলভ নয় বলে অভিহিত করেন তিনি। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং জেলা সেক্রেটারি আবদুল আওয়ালসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।




