জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কর্মসূচি পালনের সুযোগ সবার থাকলেও তা কোনোভাবেই সহিংসতা বা অগ্নিসংযোগের লাইসেন্স হতে পারে না। শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে’ এই সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাস, ট্রেন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আগুন দেওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান রিজভী। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মূলত পরাজিত শক্তিগুলো সাহস ও উৎসাহ পাচ্ছে। রাজশাহীর রেলওয়ে স্টেশন ভাঙচুরের উদাহরণ টেনে তিনি বিরোধী দলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, মঞ্চে দাঁড়িয়ে হুংকার দেওয়া বা বিক্ষোভ সভা করার অধিকার থাকলেও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা সমর্থন করা যায় না।

জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদকের একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রিজভী পাল্টা প্রশ্ন করেন, যদি বর্তমান পরিস্থিতি পরাজিত ফ্যাসিস্টদের সুযোগ করে দেয়, তবে রেলওয়ে স্টেশনের মতো সরকারি স্থাপনা ভাঙচুরের সুযোগ কোথায় পেল তারা? তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং ৫ই আগস্টের অর্জিত বিজয়কে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে। যারা আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব। সেই সঙ্গে তিনি যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের বিভ্রান্তিকর প্ররোচনায় কান না দিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং জানান যে, গণতান্ত্রিক শক্তির অধিকার আছে এই ধরনের সহিংসতা প্রতিহত করার।

বক্তব্যের এক অংশে রিজভী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রেরণের কথা উল্লেখ করেন। সাবেক সরকারের বিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে বিদেশ সফরের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অপ্রয়োজনীয় খર્ચ কমিয়ে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি জানান, সরকার এখন পর্যন্ত কারও বেতন বাড়ায়নি, তাই আগাম সমালোচনা করার অবকাশ নেই।

নয়াপল্টনের এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশের পর একটি মিছিল বের করা হয়, যা নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তানে গিয়ে শেষ হয়।