রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে এবং তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা খর্ব করতে একটি শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদিত এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার জ্বালানি খাতের প্রধান ক্রেতাদের শাস্তি দেওয়া। এই আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানির শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার ব্যাপক ক্ষমতা লাভ করেছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দুটি দেশ হলো চীন এবং ভারত।

বিলটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে, যিনি ১১ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন এবং ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের অন্যতম জোরালো সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনের নাম দেওয়া হয়েছে 'লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬'। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুরোধে এই আইনের পরিধি কেবল রাশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে ইরানের জ্বালানি ও অস্ত্র খাতের ওপরও বিস্তার করা হয়েছে।

৪৮ পৃষ্ঠার এই বিস্তারিত আইনে কিছু বিশেষ ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। যেসব দেশ তাদের প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম রাশিয়া থেকে আমদানি করে এবং রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকতে পারবে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, রাশিয়ার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নিষেধাজ্ঞাকে ফাঁকি দিতে ব্যবহৃত রাশিয়ার তথাকথিত 'শ্যাডো ফ্লিট' বা গোপন ট্যাঙ্কার বহরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এই আইনটিকে 'প্রচণ্ড নিষেধাজ্ঞা' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা পুতিনের যুদ্ধ যন্ত্রকে পঙ্গু করে দেবে বলে তিনি মনে করেন।

জ্বালানি ও পরিচ্ছন্ন বায়ু গবেষণা কেন্দ্র (CREA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের রপ্তানির ৫০ শতাংশ ছিল চীনের দখলে এবং ৩৭ শতাংশ ছিল ভারতের। এছাড়া তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রত্যেকে ৫ শতাংশ করে আমদানি করেছে, যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রুশ জ্বালানি রপ্তানির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে দীর্ঘকাল চাপ দিয়েছিলেন সিনেটর গ্রাহাম। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এই আইনের সমর্থন জানিয়েছেন। ১৭ সেপ্টেম্বর টেলিগ্রামে এক বার্তায় জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলার মাঝেই প্রতিনিধি পরিষদে এই বিলটি পাস হওয়া অত্যন্ত প্রতীকী।

উল্লেখ্য, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের কারণে অ্যাওর্টিক ডিসেকশনে গত ১১ জুলাই ৭১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি কিয়েভ সফর থেকে ফেরার কিছুকাল পর মারা যান। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, গ্রাহাম সেই কাজ করতে করতে মারা গেছেন যার জন্য তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে ইউক্রেন সহায়তার বিষয়ে মতভেদের মাঝেও তিনি ক্যাপিটল হিলে ইউক্রেনের সবচেয়েনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে গণ্য হতেন।