শারদীয় দুর্গাপূজার আমেজে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ভিড়ের মাঝে রাজশাহীর রাণীবাজারের একটি মণ্ডপ হয়ে উঠেছে বিশেষ আকর্ষণ। টাইগার সংঘের উদ্যোগে নির্মিত ৪৫ ফুট উচ্চতার বিশালাকার দুর্গাপ্রতিমা দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের নিয়ে আসা মানুষ প্রতিমাটির সামনে ছবি তোলা এবং ভিডিও করার মাধ্যমে মুহূর্তগুলো ধরে রাখছেন।

টাইগার সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থ পাল চৌধুরী জানান, তাদের সংগঠনের ৪৫ বছর পূর্তি উদযাপনের কথা মাথায় রেখে এবার এই ৪৫ ফুটের প্রতিমাটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতি বছরই তারা ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ভিত্তিক মণ্ডপ সাজিয়ে থাকেন, যার ধারাবাহিকতায় এবার এই বিশেষ আয়োজন। সংগঠনের সভাপতি সুশীল কুমার আগরওয়ালা জানান, বাঁশ, কাঠ, ফোম, চট এবং শোলার সমন্বয়ে তৈরি এই প্রতিমাটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা, যা সংগঠনের নিজস্ব তহবিল থেকে সংগৃহীত। তিনি আরও জানান, পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ছোট প্রতিমাটি বিসর্জন দেওয়া হবে, তবে এই বিশাল প্রতীকী প্রতিমাটি খুলে সংরক্ষণ করা হবে।

দর্শনার্থীদের মধ্যে পিংকি রায় নামের একজন ব্যক্তি জানান, বাঘা থেকে পরিবারের সাথে এই অনন্য প্রতিমাটি দেখতে এসেছেন তিনি, কারণ এত বড় প্রতিমা আগে কখনও দেখার সুযোগ হয়নি। আজিত ঘোষ নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, ফেসবুকে এই মণ্ডপের খবর পাওয়ার পর তিনি এখানে এসেছেন এবং বাস্তবে তা আরও সুন্দর মনে হয়েছে তার কাছে। মণ্ডপের পুরোহিত সুমন চক্রবর্তীও এমন এক ঐতিহাসিক আয়োজনের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বিশাল এই ভিড় সামলাতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।

অন্যদিকে, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পুরো রাজশাহী জেলায় মোট ৪৬৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে ৮৫টি এবং আটটি উপজেলায় ৩৮১টি মণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি পূজা হচ্ছে বাগমারায় (৮৬টি), এরপর তানোর ও বাঘায় ৫৯টি করে, পুঠিয়ায় ৫৬টি, গোদাগাড়ী ও চারঘাটে ৪২টি করে, মোহনপুরে ২৪টি এবং দুর্গাপুরে ২৩টি মণ্ডপে শারদীয় উৎসব উদযাপিত হচ্ছে।