মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকার পালি ভিলেজে পর্তুগিজ স্থাপত্যের প্রভাবযুক্ত একটি ৯০ বছর পুরোনো লাল বাংলো এখন নতুন রূপে পরিচিত 'স্কারলেট হাউস' নামে। বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরার এই রেস্তোরাঁটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে। বাড়িটির ঐতিহাসিক লাল রঙের কথা মাথায় রেখেই এর নামকরণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি কেবল মালাইকার একার নয়, বরং এতে যুক্ত হয়েছেন তাঁর পুত্র আরহান খান, মালয়া নাগপাল এবং রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা ধবল উদেশি।

স্থাপত্য ও নকশার ক্ষেত্রে এখানে পুরোনো ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। স্থপতি নিশি পারেখের পরিকল্পনায় বাংলোর আদি বৈশিষ্ট্য যেমন—পুরোনো কাঠের বিম, জানালার বিশেষ গঠন এবং মেঝের স্বকীয়তাকে অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। অন্দরে ভিনটেজ ম্যাক্সিমালিজম শৈলীর প্রয়োগ দেখা যায়; যেখানে রয়েছে রেট্রো শিল্পকর্ম, নকশাদার ওয়ালপেপার, হাতে আঁকা সিরামিক এবং প্যারিসের বাজার থেকে সংগৃহীত কার্পেট ও আলোকসজ্জার সরঞ্জাম। প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের এই পরিসরে ডাইনিং স্পেসের পাশাপাশি রয়েছে কফি বার এবং ওয়াইন ও চিজের জন্য পৃথক জায়গা, যা এটিকে কেবল ভোজনরসিকদের নয়, বরং আড্ডাপ্রিয়দেরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

খাবারের তালিকায় এখানে স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং বৈচিত্র্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শেফ বীনা নরোনহার তত্ত্বাবধানে তৈরি মেনুতে আন্তর্জাতিক রন্ধনশৈলীর সঙ্গে ভারতীয় উপাদানের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। বিশেষ করে 'মাল্লার ফেবারিটস' বিভাগে মালাইকার ব্যক্তিগত পছন্দ ও পারিবারিক রেসিপির পদ যেমন মশালা খিচুড়ি এবং বেকড ফিশ স্থান পেয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য এখানে গ্লুটেন-ফ্রি এবং ভেগান বিকল্পের পাশাপাশি রয়েছে কুইনোয়া, অ্যাভোকাডো ও ব্লুবেরি সমৃদ্ধ বিভিন্ন সালাদ। এছাড়া জাপানি সুশির একটি ফিউশন সংস্করণ এখানে পাওয়া যায়, যেখানে কারি পাতা ও মাদ্রাজ-স্টাইল শ্রীরাচা সসের মতো ভারতীয় উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রাতরাশের মেনুটিও বেশ সমৃদ্ধ। এখানে বম্বে পাও-এর সঙ্গে গার্ডেন অমলেট থেকে শুরু করে পর্তুগিজ এগ স্কিলেট এবং বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর ব্রেকফাস্ট বোল পাওয়া যায়। এছাড়া পরিচিত ভারতীয় স্ন্যাকস যেমন পনির-চিজের গুজিয়া বা কাঁঠালের কুলচাকে নতুন আঙ্গিকে পরিবেশন করা হচ্ছে। খাবারের দামের ক্ষেত্রে মশালা খিচুড়ির মতো পদের দাম যেমন ৫৫০ রুপি উল্লেখ করা হয়েছে, তেমনি দুজনের গড় খরচের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রুপির কাছাকাছি হতে পারে বলে জানা গেছে।

সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের আগস্টে জুহুর সানি সাউন্ডের সাবেক ফিল্ম স্টুডিওর জায়গায় 'স্কারলেট হাউস'-এর দ্বিতীয় শাখা খোলা হয়। বান্দ্রার শাখাটি যেখানে ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, জুহুর শাখাটি সেখানে সমুদ্রতীরবর্তী পরিবেশ ও সিনেমার ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত। এখানে বিশেষ করে হাইড্রেশন বার এবং ককটেল মেনুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মালাইকা অরোরার এই ব্যবসায়িক যাত্রা কেবল তারকাখ্যাতির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এর মূল লক্ষ্য হলো খাবারের মান ধরে রাখা এবং অতিথিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা। শহরের দ্রুত পরিবর্তনশীল স্থাপত্যের ভিড়ে পুরোনো বাড়ির চরিত্র বজায় রেখে সমকালীন জীবনযাপনের এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে স্কারলেট হাউস।