রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় গত ২২ আগস্ট রাতে নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর আদালতে জবানবন্দিতে আসামিরা জানিয়েছিলেন, হত্যার আগে তাঁরা ৮ থেকে ৯টি ইয়াবা সেবন করেছিলেন। তবে সম্প্রতি তাঁদের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি।
গতকাল রবিবার রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়। সেখানে কারাগারের ভেতর থেকেই দুই আসামির মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসামিদের কারাগারের বাইরে নিয়ে এলে জনতার হামলা বা নাশকতার আশঙ্কা ছিল, তাই ভেতর থেকেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে ওই পরীক্ষার প্রতিবেদন ডিবির হাতে এসে পৌঁছায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মহানগর ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে দুই আসামির ডোপ টেস্টের রিপোর্ট তাঁরা পেয়েছেন। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁদের শরীরে মাদকের কোনো উপস্থিতি নেই। তবে তিনি আরও জানান, ঘটনার আট দিন পর মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এত দেরিতে পরীক্ষা করায় মাদকের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। দুই-তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করা হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের একটি প্রশ্ন ছিল—আসামিদের আগের স্বীকারোক্তি ও ডোপ টেস্টের ফলাফল সাংঘর্ষিক কি না? জবাবে উপপুলিশ কমিশনার জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুধুমাত্র মূত্রের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে; চুল বা রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার সুযোগ সেখানে নেই।
ঘটনার পর গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ইতিমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তাঁরা বর্তমানে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এই মামলাটি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে মাদক সেবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবিকে ঘিরে। নতুন এই প্রতিবেদন আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


