নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার হাজতখানায় আটক ১০ ব্যক্তির 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান সম্বলিত ওই ভিডিও একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। হাজতখানায় থাকা অবস্থায় আসামিদের হাতে মুঠোফোন পৌঁছানো এবং সেই ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করে প্রকাশের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণ কিছু বক্তব্য দেওয়ার পর 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান উচ্চারণ করেন। তারপর সেখানে থাকা অন্যরাও একই স্লোগানে অংশ নেন। পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনটির ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতির সময় গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঢাকামুখী প্রধান সড়ক থেকে ওই ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফেরদৌস (১৮), আবরার আহম্মেদ (১৮), ইয়াসিন (১৮), রাব্বি (২০), শিমুল (২০) ও নয়ন (১৮)। বাকি চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া ও ফতুল্লার পঞ্চবটি বিসিক এলাকায় বলে জানা গেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতির সময় শনিবার রাতে ওই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের থানার হাজতখানায় রাখা হলে এসআই মনিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই সুযোগে কোনো এক ফাঁকে তাঁরা স্লোগান দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। এই ঘটনায় থানার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে, গতকাল রোববার গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ। নিয়ম অনুযায়ী আটকের বিষয়টি অভিভাবকদের ফোন করে জানানোর কথা থাকলেও সেটি যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর থেকেই ফতুল্লা থানার ভেতরে হাজতখানায় স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা চলছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই সদস্যকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যায়।



