বর্তমান কর্মক্ষেত্রে বেতন, পরিবেশ বা কাজের প্রতি অনীহা থেকে অনেকেই নতুন চাকরির খোঁজ শুরু করেন। তবে এই খোঁজার প্রক্রিয়া যখন কেবল অসংখ্য বিজ্ঞপ্তির ভিড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি পাঠানোর নেশায় পরিণত হয়, তখন তা এক মানসিক ফাঁদে রূপ নেয়। কর্মজীবনের এই নেতিবাচক অভ্যাসটিকে অভিহিত করা হচ্ছে ‘ডুমজবিং’ হিসেবে। মূলত হতাশা ও অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই একের পর এক চাকরির আবেদন করার এই প্রবণতা ব্যক্তিকে আরও বেশি হতাশ করে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী পরামর্শ প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ট্যালেন্ট ট্রিহাউস’-এর প্রধান নির্বাহী গোল্ডা ইনকুইটো রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানান, এই পদ্ধতিটি আসলে চাকরির আবেদনের একটি হতাশাজনক চক্র। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থী কোথায় আবেদন করেছেন তা মনে রাখতেই হিমশিম খান, ফলে চেষ্টা চললেও প্রকৃত কোনো অগ্রগতির অনুভূতি তৈরি হয় না। অন্যদিকে, ‘ইনেট পাওয়ার এলএলসি’-এর সিইও নিকোল জনস্টনের মতে, বারবার আবেদন করে সাড়া না পেলে প্রার্থীর মনে হতে পারে তিনি কোনো পদের জন্যই যোগ্য নন, যা তার আত্মবিশ্বাসকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। এতে করে যোগ্য সুযোগগুলোও ছোট হয়ে আসে এবং অন্যদের সাফল্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করার ফলে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সাথে অমিল থাকা পদে আবেদন করলে নিয়োগদাতার দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা জমে ক্রমাগত আগ্রহ কমে যায়। অনেক সময় দেখা যায়, উপযুক্ত চাকরির জন্য প্রস্তুতির চেয়ে আবেদনের সংখ্যা বাড়ানোই প্রার্থীর প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। এই চক্রে আটকে থাকলে মানুষ নতুন দক্ষতা অর্জন, বর্তমান কাজে মানোন্নয়ন কিংবা বেতন বৃদ্ধির আলোচনা করার মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো ভুলে যান।

এই 'ডুমজবিং' চক্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকর পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, লক্ষ্য স্পষ্ট করা প্রয়োজন। শুধু বর্তমান চাকরি ছাড়ার তাড়না নয়, বরং ভবিষ্যতে কী ধরনের কাজ করতে চান, কোন পরিবেশ আপনার জন্য অনুকূল এবং কোন দক্ষতার প্রয়োজন তা চিহ্নিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জীবনবৃত্তান্তের ক্ষেত্রে অভিন্ন ফরম্যাট ব্যবহার না করে প্রতিটি পদের চাহিদা অনুযায়ী তা পরিবর্তন করা জরুরি। তবে তথ্যের ক্ষেত্রে কোনো অতিরঞ্জন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখা উচিত। সারাদিন চাকরির বিজ্ঞপ্তি না খুঁজে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট সময় দিয়ে উপযুক্ত কাজ বাছাই করা এবং সপ্তাহে বড়জোর পাঁচটি মানসম্মত আবেদন পাঠানোর কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি শুধু বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর না করে পেশাগত নেটওয়ার্কিং বা যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সাবেক সহকর্মী বা সমপেশার ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে অনেক সময় বিজ্ঞপ্তির বাইরেও ভালো সুযোগ পাওয়া সম্ভব হয়।