রাজশাহী মহানগরীতে পুলিশের বিশেষ তল্লাশি অভিযানের সময় সংকেত উপেক্ষা করে পালাতে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মতিহার থানা এলাকা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের বয়স ১৭ বছর বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার বিকেলে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালায়। সেই সময় কাটাখালী পৌর এলাকার একটি চেকপোস্টে দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে থামার ইশারা করা হয়। কিন্তু তারা সেই সংকেত অমান্য করে দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তারা দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় কাটাখালী থানায় দণ্ডবিধি ও সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মতিহার থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, কাটাখালী চেকপোস্টে দুই মোটরসাইকেল আরোহী সংকেত অমান্য করেছিলেন। তাঁদের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার কিশোরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে একই দিন বিকেলে মতিহার থানার আওতাধীন চৌদ্দপাই বিহাস এলাকায় আরেকটি তল্লাশিচৌকিতে একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি দায়িত্ব পালনরত মতিহার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কিবরিয়া আহমেদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চলে যান। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় মতিহার থানায় মামলা হয়েছে। ওই দুই আরোহীরও খোঁজ চলছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ফেসবুক পেজে শনিবার রাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, কাটাখালী ঘটনায় ধৃত কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অপর পলাতক আরোহী এবং মতিহার ঘটনার দুই ব্যক্তিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




